//azoaltou.com/afu.php?zoneid=3651748 //azoaltou.com/afu.php?zoneid=3683887
top of page
Search

ইন্টারভিউঃ ঊষসী চক্রবর্তী

  • Mar 31, 2021
  • 5 min read



ভাণঃ যে কোনো একজন জনপ্রিয় অভিনেতা তাঁর ইম্প্যাক্ট পাওয়ার অনেক বেশী, কারণ তাঁর

পপুলারিটি। কিন্তু এটা কি শুধু পপুলারিটি নাকি এর ভেতর পেনিট্রেট করবার অন্য কোনো ধরণের

ইমোশনাল তারিকা আছে?


ঊষসীঃ আমি একবার গ্রিসে বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেখানে অ্যাম্পিথিয়েটার দেখার সময় যা পৃথিবীর

আদিম থিয়েটার আমাদের গাইড আমাদের বলেছিলেন, অভিনেতাদের বলা হত শয়তানের দূত। কারণ

তাঁরা একই মঞ্চে একবার রঙ মেখে মানুষকে হাসাতেন আবার সেই মঞ্চেই কাদাতেন। এটা

শয়তানের দূত ছাড়া কেউ পারে না। অ্যাস অ্যান অ্যাক্টর এটাকে আমি খুব কমপ্লিমেন্ট হিসেবে

নিয়েছিলাম। কারণ অ্যাক্টর হিসেবে আমার এইটুকু ক্ষমতা তো আছে যেখানে আমি তাঁদের উপর

ইম্প্যাক্ট তৈরি করছি। এই যে ক্ষমতা অভিনেতাদের আছে যা অনেকটা সহজাত ক্ষমতা বা

ট্যালেন্ট, এইটা কিন্তু রাজনীতিবিদরা ব্যবহার করেন।


ভাণঃ এর তো একটা পার্সিয়াল বিষয় আছে। মানে, আমরা যদি খুব ইন্টেলেকচুয়ালি বিষয়টিকে না

ভেবে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র যেমন ৭০-৮০’এর দশকে তরুণ মজুমদার হতে পারে বা পরবর্তীতে স্বপন

সাহা, অঞ্জন চৌধুরী বা হরনাথ চক্রবর্তীও হতে পারেন। তো এদের সিনেমার ক্ষেত্রে যে ধরণের

এথিক্স বা মোরালিটির একটি যে জায়গা তৈরি করা হয় যেমনঃ মিডিল ক্লাস, নিম্ন মধ্যবিত্ত,

বাঙালিয়ানার দৃঢ় বিশ্বাস, পারিবারিক মূল্যবোধের জায়গা; সেখানে দাঁড়িয়ে সবসময় কি রঞ্জিত

মল্লিক বেশি গৃহিত হবে নাকি বিপ্লব চ্যাটার্জিও হবে? এর মধ্যে কী কোনো রহস্য আছে?


ঊষসীঃ আমার মনে হয় যে পপুলারিটির কথা যদি আপনি বললেন সেখানে হিরোদের গ্রহনযোগ্যতা

অনেক বেশি হবে। মানে আমি যেমন একটা নেগেটিভ চরিত্র করি, কাল যদি আমার মনে হয় সক্রিয়

রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করবো এই চরিত্র করতে করতে তাহলে মানুষজন কিন্তু আমায় ভালোমতো

নেবেন না। বিপরীতে যে প্রধান বা মূল চরিত্রে অভিনয় করছে তাঁর গ্রহনযোগ্যতা অনেক বেশি।



ভাণঃ আচ্ছা এটা কি প্রমাণ করে না যে আসলে এটা একটা মেজরিটি লেভেলের ম্যাচুয়িরিটির

প্রচন্ড অভাব যেটা কিনা বড় পলিটিক্সে প্রভাব ফেলে যায়?



ঊষসীঃ কার মানুষের না রাজনীতির?


ভাণঃ মানুষের। তার মানে আমরা দেখলাম যে জনগণ একটা মানুষ যাকে অ্যাপারেন্টলি দেখে ভোট

দিচ্ছে। নাকি এটার পিছনে ভালোর প্রতি যে আমাদের স্বাভাবিক মোহ সেটাই কাজ করে?



ঊষসীঃ লোকের ম্যাচুয়িরিটি নিয়ে কথা বলা ঠিক নয়। কাজেই আমি বলতে পারবোনা যে তাঁরা

ম্যাচিয়র না ইম-ম্যাচিয়র কারণ এটা খুব জাজমেন্টাল শোনাবে কিন্তু হ্যাঁ ভালোর প্রতি যে

আকর্ষণ সেটা তো অবশ্যই কাজ করে।


ভাণঃ তাই জন্যই কি কান্তি গাঙ্গুলি দেবশ্রী রায় কাছে হারে?


ঊষসীঃ দেখুন এখানে ব্যক্তি কান্তি গাঙ্গুলি বা ব্যক্তি দেবশ্রী রায় নয়, এটা একটা হাওয়ার

ব্যাপার। তখন সেই সময় ইলেকশন যখন হয়েছে তখন হাওয়াতো বামেদের দিকে ছিল না। তাই

ব্যক্তি মানুষ এখানে আলোচ্য বিষয় নয়। কোন দল, কোন পালে হাওয়া সেটা বুঝতে হবে।


ভাণঃ আজকের সেলেবদের রাতারাতি তারকা থেকে দেশের সেবক বনে যাওয়ার হাস্যকর চেষ্টা

পলিটিক্সকেই তাচ্ছিল্য করছে নাকি?



ঊষসীঃ আমার মনে হয় শুধু সেলিব্রেটিদের পলিটিক্স করা নিয়ে তাচ্ছিল্য নয়, পলিটিক্স করা

নিয়েই একটা তাচ্ছিল্য শুরু হয়েছে গোটা সমাজে। কারণ আমরা আমাদের ছোটবেলা থেকে পলিটিক্স

বিষয়টাকে সিরিয়াস বিষয় ভেবেছি। কিন্তু এখন নায়ক-নায়িকারা শুধু পলিটিক্স করছে সেটা

তাচ্ছিল্যের ব্যাপার তা নয় সামগ্রিক ভাবে যে কোনো পলিটিশিয়ানরাও এমন এমন কাজ করেছেন

বিগত কিছু দশকে যে পুরো ব্যাপারটাই ছেলেখেলা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ সমাজে এখন সকলে মনে

করেন ভালো লোকেরা রাজনীতি করেন না। এবং এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে সেলিব্রেটিদের

পলিটিক্স করা। প্রথমত আপনি যেটা বললেন অনেক সেলিব্রেটিকে আমরা দেখেছি এখানে

রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়, কিন্তু দক্ষিণে যত বেশি অভিনেতা-অভিনেত্রী ধারাবাহিক ভাবে

পলিটিক্স করেছেন বাংলায় ঐ চলটা যে বিরাট মাপের ছিল তা না। আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন

দেখতাম সেইসব সেলিব্রেটিরাই রাজনীতি করছেন যাঁদের পলিটিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড আগে থেকেই

ছিল। যাঁরা মাঠে-ময়দানে নেমেছেন, বা যাঁদের রাজনীতি নিয়ে কিছু বলার ছিল সারাজীবন ধরে। তখনও

ব্যাপারটা এতোটা হাসাহাসির পর্যায়ে যায়নি, কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে যে কোনোরকম পলিটিক্যাল

ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়া বা যাঁদের কোনোরকম সামাজিক কাজে দেখা যায়নি তাঁরাই আজ হঠাৎ করে

এম.এল.এ বা এম.পি হওয়ার দৌড়ে নেমে পড়েছেন। দ্বিতীয়ত, পলিটিক্সটাই খুব সিরিয়াসনেস

বহির্ভূত একটা হাসির পর্যায়ে চলে গেছে। যেখানে যে খুশি নেতা হতে পারেন বা যা খুশি হতে পারে।



ভাণঃ সেলিব্রেটির কথাটা আলাদা করে বলার একটাই কারণ, সেলিব্রেটি শব্দটির মধ্যে

পপুলারিটির গপ্পোটি লুকিয়ে আছে এই জনমানসে প্রভাব তৈরি করার ক্ষেত্রে একজন শিক্ষক

তিনিও পপুলার হতে পারেন কিন্তু সেটি একটি কনফাইন্ড জোনে। কিন্তু সেলিব্রেটি মানে তাঁকে কত

মানুষ চেনে বা কোন কোন কর্নার থেকে তাঁকে চেনে কীভাবে রিলেট করে সেটা কিন্তু সেলিব্রেটি

নিজেই আইডিয়া করতে পারে না। এই জিনিসটাকে যখন আমি হাতিয়ার করছি অর্থাৎ আমি যখন

আমার এই সেলিব্রেটি সত্তাকে সেলিব্রেশন মোডে নিয়ে যাচ্ছি সেই নিয়ে জনতার কোনো আপত্তি

নেই। কিন্তু যখন দেখা যাচ্ছে যে এইটাকে হাতিয়ার করে কাজ করছি, যেমন দেশ গড়া, রীতিনীতি


নির্ধারণ, সেই কাজটা করবার জন্য আমি এটাকে খুব বেআব্রু ভাবে ব্যবহার করছি। সেই কারণে

দেখা যাচ্ছে একজন খুব বড় মাপের ডাক্তার বা ঐতিহাসিক বা একজন মনোবিদ তিনি কিন্তু দ্রুত

আসেননা এর মধ্যে। এবার আসেননা কথাটা দুভাবে হতে পারে – হয়তো তাঁর ম্যাচুয়িরিটি অনেক

বেশি বা কম অথবা ওঁর দুম করে এতো মানুষকে নিয়ন্ত্রন করবেন বলে আশা করেন নি। এই বিষয়ে

আপনার কী মত?


ঊষসীঃ এলেও আমরা হয়তো সেটা নিয়ে অতো বেশি চর্চাও করিনা। এমনকি জানতেও পারি না।

পপুলার ফেসের তো আবার একটা অন্য ভ্যালুউ আছে যে কেউ এলেই আমরা সঙ্গে সঙ্গে জানতে

পারি, রিয়েক্ট করি, কমেন্ট করি। এখন তো সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে আমরা আবার অতি রি-

অ্যাক্টিভ হয়ে গেছি- মানে অন্তত সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাই পপুলার ফেস রাজনীতিতে এলে কিন্তু

নাড়াচাড়াও বেশি হয় সমাজে। সেটা কিছু খারাপ ব্যাপার না। অনেক সময় এটাও হয় যে, যেসব

সেলিব্রেটিদের আমরা খারাপ জনপ্রতিনিধি হবেন বলে মনে করেছিলাম বা কোনো পলিটিক্যাল

ব্যাকগ্রাউন্ড নেই সেরকম জনপ্রতিনিধি – তাঁরা কাজ শেষবধি কিন্তু খারাপ করেন না। অনেক

সময় ভালো করেন, সবাই যে খারাপ তা নয়। কিন্তু এটা তো একটা সিরিয়াস কাজ, শো-বিজনেজও

একটা সিরিয়াস কাজ যেখানে সাধারণ মানুষকে এন্টারটেইন করা হয় সেটাও খুব সিরিয়াস কাজ।

কিন্তু এই কাজে তো মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলি সরাসরিভাবে যুক্ত আছে ; অন্ন-বস্ত্র-

বাসস্থান-চাকরি। তাই এইকাজে একটি অন্য মাত্রার সিরিয়াসনেস দরকার।


ভাণঃ আপনি জীবনে যে জায়াগায় পৌঁছেছেন সেই জায়গায় তো আপনার কাছেও বিভিন্ন ধরণের

প্রার্থী হওয়ার অফার এসে পৌঁছেছে। কারণ আজকের যে বারবেলাতে এসে পড়েছি আমরা সেখানে

তো বিভিন্ন মহল থেকে টোঁকা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সেখান থেকে দাঁড়িয়ে আমরা আপনার কোনো

সিদ্ধান্ত দেখিনি। পলিটিক্সকে কি সেলিব্রেটিরা ব্যবহার করছেন নাকি রাজনীতি বা

রাজনীতিবিদরাও সেলিব্রেটিদের ব্যবহার করছেন?


ঊষসীঃ এতো অনেকটা ডিম আগে না মুরগি আগের মতো প্রশ্ন। কারণ, দুপক্ষই দুপক্ষকে ব্যবহার

করছে। একপক্ষ তার ফেসটাকে ব্যবহার করছে অপরপক্ষ পলিটিক্সে একবার জিতে গেলে তার যে

সুযোগ-সুবিধা-ক্ষমতা ব্যবহার করছে। এটা আমার মনে হয় মিয়চুয়্যাল। সবাই সবাইকে ব্যবহার

করছে। আমার ক্ষেত্রে বলতে পারি আমি রাজনীতি সচেতন একজন ব্যক্তি। কিন্তু আমার মনে

হয়েছে যেহেতু আমরা রাজনীতিকে ছোটবেলা থেকে খুব সিরিয়াস বিষয় হিসেবে বুঝে এসেছি তাই

যতক্ষণ না আমি পুরোপুরি নিজেকে নিবেদন করতে পারছি রাজনীতিতে বা কমিটমেন্ট করতে পারছি

তার আগে অব্দি আমার তেমন কোনো ইন্টারেস্ট নেই। কারণ আমার ধারণা হয়েছে রাজনীতি করতে

গেলে প্রচুর সময় দিতে হয়। কিন্তু সেই ধারণা আমার কমেও যাচ্ছে, কেটেও যাচ্ছে। কারণ বহু

মানুষ হাফ-হার্টেড কাজ করে, দু-নৌকায় পা দিয়ে চলছেন।


ভাণঃ তার মানে আমিতো সেলিব্রেটি, দল আমাকে সেলিব্রেটি হিসেবেই কাজে লাগাচ্ছে। তাহলে

আমার এই যে ওজন, আমার ফেম, আমার পপুলারিটিটা, এটা যেহেতু আমি তাকে নিবেদন করছি,

তাকে আমি সাপোর্ট করছি, যেমনঃ আমার নাম অমুক, আমি যেহেতু আমার ইমেজকে দলকে


ব্যবহার করতে দিচ্ছি তাই একজন সাধারণ কর্মী বা রাজ্য কমিটির সদস্যেদের সমতুল আমি কাজ

করবো না। কিন্তু এই বাজারেও, এই ইন্ড্রাস্ট্রিতে, চট করে কিন্তু আমরা দেখছি না যে একটা

সময় অনিল চ্যাটার্জির মতো মানুষ বা বিপ্লব চ্যাটার্জির মতো মানুষ বা সম্ভবত অনুপ কুমারও

একটা সময় – তো এঁরা সকলেই এসেছেন বাম রাজনীতি তে এবং বাম রাজনীতিতে অনেকদিন ধরে

ছিলেনও, কিন্তু তারপরে “ রাজনীতি যে একটি সিরিয়াস বিষয়, কমিটমেন্ট না থাকলে যত বড়ই

অভিনেতা হই না কেন সেটা সম্ভব নয় ” আপনার কথা অনুযায়ী যা আমরা মেনে নিলাম কারণ

রাজনীতি করাটাই একপ্রকার বালখিল্যতা সেটাই যেন জনমানসে প্রচারিত হচ্ছে। কিন্তু

তৎসত্ত্বেও, আপনি চাইলে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলতেই পারেন, মূল প্রশ্নটি হল,

কোনো বাম দলের তরফ থেকে কি এখনও অব্দি এরম ডাক আসে? মানে যে কোনো বাম দল হতে

পারে। বা কেউ কি ভাবে বাম দলে যেতে? যদি ভাবে তাহলে কেন ভাবে? কেনই বা ডাকে? ডাকা উচিত

কিনা? আর যদি না ডাকে তাহলে এখানে বাম দল কোথায় আলাদা হয়ে যায়?


ঊষসীঃ আমার মনে হয় যাঁরা খুব ভুঁইফোঁড় মানে যাঁদের রাজনীতির কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড নেই,

যদিও এটি নেগেটিভ অর্থে বলিনি, তবুও, তাঁরা কিন্তু রাজনীতির সঙ্গে ক্ষমতার কিন্তু একটা

সম্পর্ক ভেবে নেয়। যে রাজনীতি করবো ক্ষমতার জন্য। যেখানে আমিও পাওয়ার স্ট্রাকচারের

একটি অঙ্গ হয়ে উঠবো। দেখুন, বামেরাতো এখন ক্ষমতায় নেই, বাম দলে তাঁরাই আগ্রহী হবে যাঁরা

আদর্শগত ভাবে নিবেদিত, এইটুকু মনে জোর আছে যে আমি যদি বিরোধীপক্ষ করি আমার কাজ

নাও থাকতে পারে তবুও করবো। কিন্তু এই লোকগুলো সমাজে খুব কম।


প্রতিলিপিকর : পার্থ হালদার




Make a Donation

A/C: 40910100004585

IFSC Code:BARB0BUDGEB

Bank Name: Bank Of Baroda

Name in Bank: BHAAN

 
 
 

Comments


Subscribe to Site

Thanks for submitting!

© 2020 Bhaan Theatre | Designed by Capturegraphics.in
bottom of page