//azoaltou.com/afu.php?zoneid=3651748 //azoaltou.com/afu.php?zoneid=3683887
top of page
Search

গায়কী অঙ্গ

  • Dec 30, 2020
  • 3 min read

দ্বিতীয় পর্ব

অরিত্র দে


তখন দামাল কিশোর। দাপিয়ে বেড়ানো মন। লাফিয়ে চলা শরীর। হাঁফিয়ে ওঠা পরিশ্রম। তবুও সহজে হাঁফ ধরে না। তাই একটানে পড়ে ফেললাম। শ্যামসুর রহমান। ইস্কুলের বইয়ে ছিল। ‘আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’। খুব শক্ত। সব ভুলে গিয়ে একটা বাক্য মনে ছিল। এখনও আছে। “পাখী সব করে রব'; বলে মদন মোহন তর্কালঙ্কার কী ধীরোদাত্ত স্বরে প্রত্যহ দিতেন ডাক”। উনিশ শতকের মদন মোহন। সংস্কৃত পণ্ডিত। ‘ধীরোদাত্ত’ মানে জেনেছি ‘উদাত্ত’ বুঝে। আর ‘অনুদাত্ত’ বুঝে। আরও পরে জেনেছি ‘স্বারিতা’। বেদের চয়ন। মন্ত্রের সাধন। সাংগেতিক। সামবেদে আছে। আমরা জানি ‘সামগণ’। পরে আসে ‘ছন্দ’। আর আসে ‘প্রবন্ধ’। প্রায় মৌখিক। একটু যন্ত্রযোগ আছে। বরাবরই ছিল। মিলেজুলে সঙ্গীতের রূপান্তর। বৈজ্ঞানিক রূপান্তর। ‘গান্ধর্ব বেদ’। আমরা বলি ‘ধ্রুপদ’।

তেরশো শতক। একদিন তুর্কী এলো দেশে। উত্তাল তরঙ্গের মতো। উদ্দাম জনপদের বেশে। উত্তর ভারত বেশ বুঝলো। এবার বদল আসছে। রদবদল। জীবনে। যাপনে। শিল্পে। সাহিত্যে। সঙ্গীতেও। এবার নতুন দরবার। এখন অন্য রাজা। যবন রাজা। অগত্যা মন্দির ভাঙ্গা পড়ল। অনেক। ঈশ্বরও মন্দির ছাড়লেন। অনেক আগেই। শিল্পী-পণ্ডিতে গড়াগড়ি খাচ্ছেন দেশময়। থিতু হতে পারছেন না কোথাও! তবুও মুখ দেখতে হয়। চেনা মুখ। অচেনা মুখ।

মানুষের মুখ। মানুষ চাই। জনপদ চাই। রাজার। প্রজার। ঈশ্বরেরও। তাই দেবদূতদের আসতেই হল। রাজার তরফে সূফী। প্রজার তরফে যোগী। সহজ মধ্যস্থতা। সহজাত বন্ধন। কীর্তনে মিশল কাওয়ালী। ভজনে মিলল গজল। সামা- সে থিতু হল সঙ্গীত। আর দরবারে থিতু হল ধ্রুপদ। পুরুষ্টু হল ঠাট।

যখন প্রথম ফিজিক্স পড়তে শুরু করি, তখন ‘ফিজিক্স’ বলতাম না। বলতে পারতাম না। ‘জড়বিজ্ঞান’ বলতাম। অনেক পরে ‘পদার্থবিদ্যা’তে ধাতস্থ হই। আত্মস্থ হই নি। কেবল বইতেই লেখা থাকতো। উঠতি বয়সে সময় বদলে যাচ্ছিল। প্রতিনিয়ত। পর্যাণুক্রমে। অথচ স্যার পড়াতেন ধ্রুবক। আমি সাইন বদলে দিতাম। প্যারামিটারে ভুল করতাম। ডেফিনিশান কঠিন লাগত খুব। তারপর একদিন ধ্রুবক বদলে constant হয়ে গেল। আমি গ্রাম বদলে শহরে এলাম। আমার ভাষা বাংলা বদলে ইংরেজি হল। অনেকটা। কিন্তু তখন বুঝিনি। ধ্রুবক আসলে একটা ধ্রুবতারা ছিল।

আজও তাই আছে। ক্ষণ পালটে ফিরে আসে। এবার এলো সঙ্গীতে। ধ্রুপদ ভেঙ্গে পেলাম ‘ধ্রুব’। সেই চিরস্থায়ী নক্ষত্র। ভাসমান। বিদ্যমান। আর পেলাম ‘পদ’। ঘরে ফেরার গান। সে গানও তৈরিই ছিল। মন্ত্রে। আর কাব্যে। টান পড়লো শব্দে। তান লাগল স্বরে। ঘুরতে লাগল বিশুদ্ধ রাগ। ফিরতে লাগল বিশুদ্ধ কাল। একটা নির্দিষ্ট বিন্দুতে।

মুক্তির বিন্দু। ঈশ্বরারোহণ। এ চিজ বশমে আনতেই হবে। দিল্লীতে থাকতেই মালুম হয়েছিল আবুলের। বাকি সব বেকার। এক ইয়েহি আসলিয়াত পহেচানমে এসেও এখনো জেনানার বাইরে এলো না। আবুলের আফসোস হয়। চেষ্টার কসুর করেনি। ওয়াক্ত পে ওয়াক্ত। ইধার সে উধার। বেপান্‌হা হিন্দুস্থানের কোনে কোনে আলাপ জমিয়েছেন। লেকিন আল্লার মেহেরবানী হয়নি। ফিরভি কোশিশ করতেই হবে। ফিরসে যেতে হবে। দুসরা মূলক। দরবার ভি শুখা মেহেসুস হচ্ছে এখন। ইরানের

বন্দিশ ভি বহুৎ পুরানা হয়ে গেছে। এ দরবারে একটাই নেশা। মেহ্‌ফিল। হারেমও লেড়কির কমি নেই। ইয়া আল্লাহ্‌!



চমকে উঠল আবুল। সহি ওয়াক্ত পর কথাটা দিলে এসেছে বটে! জেনানার কাওয়ালী ফরমাতে হবে ইসবার। হারেমের গজল লিখতে হবে। সুলতানকে লিয়ে। দরবারকে লিয়ে। উও ভি হিন্দুস্থানের নজদিক হবে। এখানের রাগের ইস্তেমাল করতেই হবে। হিন্দুস্থানের সুলতানকো হিন্দুস্থানের রাগ পহেচান করাতে হবে। ইরানের সুর ভি উসমে মিশে যাবে।

লেকিন এক বাত! ইয়ে গজলমে কেবল লেড়কি থাকবে। ঊনকি চেহ্‌রা অউর ঊনকা মায়া মেহ্‌সুস হবে। ঊনকি প্যারকা ছমক ভি ইয়াদ দেবে। ইস জমিন পে জন্নতকা ইন্তেজাম মালুম হবে। একটু বেশরমি লাগছে বটে। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতেই হল আবুলকে। আদমিকা দিলমে ঘুসতে হবে। পুরা হিন্দুস্থানমে ঘুসতে হবে। নতুন সুর নিয়েই।

অগত্যা আবার লিখতে বসলেন আবুল হাসান। নু-সিফেরের প্রকাশক আমীর খুসরুর চোখ এবার তবে হারেমে গিয়ে পড়লো!



আলাপ শুরু হয়েছে। নিখাদ তরঙ্গ। নির্মোহ তান। কোন শব্দ নেই। শব্দবন্ধ নেই। শুধু অনুধ্যান। পরতে পরতে গভীরতা বাড়ছে। পদে পদে রাগের চরিত্র খুলে যাচ্ছে। সাধক চলেছেন সঙ্গীতে। ভেসে ভেসে। ডুবে ডুবে। পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। ভক্তি গদগদ মন পুঞ্জীভূত হচ্ছে এদিক ওদিক থেকে। ভেসে আসছে স্বর। ওম, নাম, রে, রি, না, তা, তম্‌ ।



আবার মন্ত্র। দৈব আবাহন। ধর্মপ্রবাহ বইছে। এবার তিনটে অক্টেভ এলো। আলাপ পূর্ণ হল। মুড আরও ধারালো হল। এবার আসর জমবে। এবার কাঁসর বাজবে। প্রায় হঠাৎ করেই। জোর করে। জোর ধরে। এই জোর আর ঝালাই

সেতুবন্ধন করছে। বরাবরের মতো। কম্পোজিশনে ফিরে যেতে চক্র ফিরছে। আমরা বলি তাল সাইকেল। চৌতালাই বেশি। বারো বিট। তবে দশ বিটের ‘সুলা’ আসে। সাত বিটের ‘তীব্র’ও আসে। আর আসে ‘ধামার’। চোদ্দ বিটের তাল। তালে তাল দেওয়ার লোক রয়েছেন। ‘পাখোয়াজ’এর সাথে। সঙ্গত সুরে। একটু দূরে। নির্নিমেষ জনগণ। নিবাত পরিমণ্ডল। যেন দেবী সরস্বতী মহাসঙ্গীতের মহার্ঘ্য রচনা করছেন। আর হেলায় ছড়িয়ে দিচ্ছেন ব্রম্ভান্ডে।

 
 
 

Comments


Subscribe to Site

Thanks for submitting!

© 2020 Bhaan Theatre | Designed by Capturegraphics.in
bottom of page