নাটক সাবিত্রীবালা:কালা সমাজের কানে বোবার সশব্দ চিৎকার
- Mar 10, 2021
- 2 min read
Updated: Mar 11, 2021

বিনয়ী গোরা
নাটকের নাম সাবিত্রী বালা।পূর্ণাঙ্গ নাটকই বলা চলে। নাটকের সারা অঙ্গ জুড়ে অদ্ভুত ব্যথা। সাবিত্রী বালার অঙ্গে অঙ্গে সুরতরঙ্গ কেবলই বেদনায় বেজে চলে। দুমড়ানো মুচড়ানো কষ্টে , অসহনীয় চাপা আতঙ্ক আর অভিমানে সাবিত্রীবালা হয়তো বোঝে শরীর থেকে মনটাকে আলাদা করতে হবে। কিন্তু কী আশ্চর্য মন কে ছুঁতে গিয়ে সে নিজের শরীরটাকে কন্ডুলী পাকিয়ে ধরে। এ দুইকে আলাদা করা যায় না যে! গভীর সে যাতায়াতের বাইরে তার যা কিছু সবই কি ধর্ষণ নয় ? যন্ত্রনায় একেবারে চুরমার তার চিন্তা , মাথা ভর্তি স্নায়ুর উদ্বেগ। ফলত তার দৃষ্টি হয়েছে আচ্ছন্ন।সাবিত্রী বালার এ পৃথিবীতে কিছু চাওয়ার নেই,পাওয়ার নেই, দেওয়ার নেই, একটা বাক্যও বলবার নেই কাউকে। শুধু কতগুলো এলোমেলো শব্দ, শব হয়ে যাওয়া সমাজের কানে যেন বা বৃথাই পৌঁছে দিতে চায় নাটকের শেষে। দর্শকদের অসাড় করে এলোমেলো শব্দের তালে তার শিব সুলভ নড়ে ওঠা আমাদের আগামীর গল্প শোনায়। শত চেষ্টার পরেও তার অসাড় হয়ে যাওয়া জিভ আছন্ন হয়ে যাওয়া বোধ অর্থপূর্ণ বাক্য তৈরি করতে পারে না। তার শেষত এই নির্বাক থেকে যাওয়াই সাবিত্রী বালার সবচেয়ে বড় শিল্পাকর্ষণ।

অনেকে যেমন উঁচু দরের অভিনয় করেছেন এনাট্যে তেমনি কেউ কেউ বড্ড নভীশ। মাধে মধ্যে তাল কেটেছেন। অনেক দলকেই প্রযোজনার প্রয়োজনে জেনে বুঝেই একাজ করতে হচ্ছে। মঞ্চ টি বড্ড ছিমছাম। একটি অসমাপ্ত প্রতিমার আদল নাটকের মূল সংকটটি কে ধরে রাখে পূর্বাপর। আলোর যাতায়াত টি চমৎকার। তবে নাটকের ডায়লগ কখনো কখনো অতিরিক্ত দীর্ঘ। বক্তব্যের ভারে কিছুটা ভারী , এবং সে জায়গা গুলিতেই কিছুটা অনাটকীয়, প্রেডিকটেবল এবং দীর্ঘ। তুলনায় প্রকাশ ও গ্রন্থনার কয়েকটি জায়গা বেশ ভালো। নাটকের আলো ভেবে দিয়েছিলেন শ্রদ্ধেয় জয় সেন। দেব চৌধুরী ভেবেছিলেন আবহ। কাজলশম্ভু শরীর বিভঙ্গ সৃষ্টিতে মন লাগিয়েছিলেন। এঁদের কাজ ভালো। সাবিত্রীবালার নাম ভূমিকায় সুচরিতা বড়ুয়া চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয় মর্মস্পর্শী। তিনিই পালাকার ,তিনিই প্রধান প্রয়োগকর্তা। তাঁর আন্তরিক এই প্রযোজনা আরোও বহু দর্শকের নজরে আসুক। এই কামনা।
Make a Donation
A/C: 40910100004585
IFSC Code:BARB0BUDGEB
Bank Name: Bank Of Baroda
Name in Bank: BHAAN









Comments