//azoaltou.com/afu.php?zoneid=3651748 //azoaltou.com/afu.php?zoneid=3683887
top of page
Search

"বিজন ঘরে, নিশীথ রাতে'-ময়ূরী মিত্র

  • Mar 31, 2021
  • 3 min read


কিছুকাল ধরে মন করছে নাট্যকার বিজন ভট্টাচার্য্যকে নিয়ে কিছু বলি | এমন নয় যে ওঁর লেখা পড়ে একেবারে থরথর করে উঠেছি | আবার এমনও নয় কৃষক বা মানুষের খিদে তেষ্টা নিয়ে কেবল ইনিই এইমাত্তর নাটক লিখে উঠলেন | তবুও কোথাও না কোথাও নাট্যকার হিসেবে বিজনবাবুর জাত ঢুঁড়ে বেড়ানোয় একটা তাড়া আসে আমার ভেতর থেকে |


আসলে থিয়েটার দিয়ে মানুষের খোঁজ নেয়া আর মানুষকে খবর করে থিয়েটার করা --- দুটো যেন কেমন মিহি গোলতাল পাকায় বিজনে | আর থিয়েটারে এই মণ্ড পাকিয়ে দেয়াটাই বড় দুষ্প্রাপ্য | এ সে -- দুকালেই |





বিজনকে নিয়ে আমার জোর ধাক্কা খাওয়া কিংবা একগলা জিজ্ঞাসার শুরু তাঁর ‘অবরোধ’ নাটকটি পড়তে বসে | এটিই ছিল আমার পড়া বিজনবাবুর প্রথম নাটক | শ্রমিক সমস্যা ও পুঁজি অর্থনীতি নিয়ে বিজনের এই একটিই নাটক | খেয়াল পড়ছে নাটকটি পড়তে বসে আমি যত না থমকে যাচ্ছিলাম , মনে হচ্ছিল , নাটকটি লিখতে বসে নাট্যকার অবশ হয়েছেন তার চেয়েও বেশি | সবচেয়ে বড় কথা নাটকটা লেখায় নাট্যকারের ইচ্ছেই বলুন আর আবেগই বলুন --- টের পাচ্ছিলাম না মোটে | ‘অবরোধ’এ বিজনবাবুর ভাবখানা এমন ---' লিখতে বলেছে তাই লিখছি | নতুবা যা দেখিনি তা লিখতে ভারী ঠেকা পড়েছে আমার |'


খুব সম্ভব -- এই যা দেখিনি তা লিখবো না এবং লিখবো না তো লিখবই না --- বিজনের এই নাছোড় দেমাক , এই ফাটাফাটি বদদিমাগ আমায় মাতোয়ারা করেছে | বিজন তাঁর সমান ও সমসাময়িকদের ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলেন এই দেখার গরিমায় | ভঙ্গিমায় | একশব্দে -- দর্শনে | তবে কি সেকালের বাকি নাট্যকারেরা জীবনকে দেখতে জানতেন না? নাকি তাঁদের দেখায় শুদ্ধ ভাবটিই আসছিলো না ? বিজনবাবুর সঙ্গে বাকিদের দেখার ফারাক কোথায় ? ফারাক অবশ্যই দেখার চোখ , আন্দাজ আর দেখার বিষয়ে মন দেওয়ায় | বিজনবাবু দেখতে চেয়েছেন যা দেখতে তাঁর মন চেয়েছে - দরকার মনে হয়েছে দেখার | নাটকেও দেখিয়েছেন, জীবনে যা ঘটা অব্যর্থ বা স্বাভাবিকভাবেই যা ঘটবে সেই সব বিষয় | 'এটাই তো ঘটা উচিত ভাই ,কমিউনিস্ট নাট্যকারের শেষের মতোই তো করতে হবে আমার নাটক ' ---এই বেফালতু চরকি কাটা বিজনের দস্তুর নয় | ভেবে দেখুন,হিসেবমত বিজনের পক্ষে চোখ কান বুজে নাটকে একের পর এক টানা উচিত ছিলো আরো আরো দুঃখী অভাজনকে | অথচ ‘জবানবন্দি’ ‘নবান্ন’ এবং ‘গোত্রান্তর’ তিনটি নাটকেই বিজন বাছলেন এমন মানুষকে , যাঁরা ওপার বাংলায় নয় কিছু ভূমি নয় কোনো একটা ভব্য পেশা নিয়ে ছিলেন |


দেশভাগ সবাই দেখছিলেন | বিজন কিন্তু দেশভাগ ও সমসাময়িক দুরবস্থার সঙ্গে সঙ্গে পাখির চোখে ছেঁকে নিচ্ছিলেন নতুন অর্থনৈতিক শ্রেণি ও তদ্ভূত নতুন অর্থব্যবস্থার সম্ভাবনা , সূত্রগুলোকে | আরো একটি টাটকা শোষণক্রিয়ার বেসামাল ঠিকরে ওঠাটাকে | দুই দুঃখী মানুষের গরিব হওয়ার পরিমাণ ও পরিস্থিতির ফারাক কী করে আর গুরুত্বহীন থাকে তাঁর কাছে ? ব্যক্তিজীবনের এই ভেদগুলো ,দুখদরদের এই রিনরিনে সব তফাৎ কী করে অজানিত থাকে এক ধীমান নাটককারের কাছে ! তাই বিজনের নাটকে ওপারের সম্ভ্রান্তের এপারের বস্তিবাসীর দুখে ভোগে লীন হওয়াটাই ছিল স্বাভাবিক | সঙ্গত | অন্যরকম কিছু হলে সেটাই হতো অনাসৃষ্টি | বিজন দেখাতে চেয়েছেন , নাটক লিখে একজন অর্থবানকে যেমন শেখানো উচিত হতদরিদ্রকে কিভাবে বুকে তুলতে হয় ঠিক তেমনি করেই একজন গরিব হতভাগাকেও তো বোঝানো যেতে পারে অপেক্ষাকৃত সম্পদশালীকে কখনো সখনো বন্ধু করে নিলে খুব মন্দ হয় না | দুপক্ষের সামান্য সহজতায় সমাজতন্ত্রের ভিটে মাটি চাটি হয় কিনা কিংবা কোন ন্যায়বোধে সমাজতন্ত্রের শিক্ষেটা কেবল ধনীদের জন্যই বরাদ্দ থাকে, দেশের ভালো মন্দের প্রশ্নে শাসকের বিরুদ্ধে দাহ জন্মালে , এগোতে গরিব বড়লোক একে অপরে ঠিক কতটা আগুপিছু করবেন, জীবনের এইসব অঙ্গাঙ্গী বাড়তিটুকুকে দেখায় বিজন বরাবর সাফমাথার |


বড়ো কম নাট্যকার আছেন যিনি নিজের জীবন বিশ্বাস ও কাজের জায়গাটাকে মেখে একসা করে ফেলতে পারেন | আর যখন তিনি এটা করে ফেলেন, করে ফেলায় অনায়াস হন তখন তিনি নিজে যেমন পরিতোষ পান, ভাগ পান পাঠকরাও | অথচ আমরা বিজন পাঠে নিজেদের সন্তোষের এই দিকটিকে স্রেফ ধুলোয় মিশিয়ে দিলাম | কেবলি ভেবে মরলাম , আরে ! এতো সোজা মানুষ ! দেখিই না আর একটু খুঁচিয়ে ! যদি অন্তর্বিরোধের তলানিটাও উঠে আসে ? যদি নাট্যকারের হৃদয়ের সবখানটায় ছড়িয়ে পড়া দিনের আলোটাকে একটু অসমান করা যায় ! আসমান এর উল্টোবাগে হাঁটানো যায় বিজনকে!


হয়েছে কী ---নিজে আমরা স্ববিরোধতায় এতোই দফারফা যে শিল্পের সিধে ভাবটা আর মোটে বরদাস্তই হয় না | বিজন যত গোঁ ধরেন ,যত সৎ হতে থাকেন, ততই তাঁকে ধরে ঝাঁকানোর নেশা চড়ে আমাদের | আরে বাপ রে বাপ ! প্রগতিশীল অথচ কোনো রকম ambiguity ই নেই ?যাহ এ আবার হয় নাকি??? বিজন বিরামহীন সত্য বলেন | আর তাঁর সত্যকথনের অস্বস্তিতে আমাদের কপাল চড়চড় করে | সত্যগোপনের স্বস্তি না পেয়ে বিজনকে অনবরত মূল্যায়নে আঘাত করি | আবার কী মজা কী মজা ! ফের সেই পাশ মুড়ি বিজনেরই পানে | আর তখন সেই যে সেই তালগাছটা ? এক পায়ে দাড়িয়ে ! উঁকি দেয় আকাশে !


বিজনের কিতাব পুরানা |

অক্ষর চিনি অমানিশায় |




Make a Donation

A/C: 40910100004585

IFSC Code:BARB0BUDGEB

Bank Name: Bank Of Baroda

Name in Bank: BHAAN

 
 
 

Comments


Subscribe to Site

Thanks for submitting!

© 2020 Bhaan Theatre | Designed by Capturegraphics.in
bottom of page