বসন্ত রাগ - সুজয়কৃষ্ণ চক্রবর্তী
- Mar 31, 2021
- 6 min read

উত্তর গোলার্ধের বসন্তকে নিয়ে সারাা পৃথিবীতে উন্মাদনা রয়েছে যা দেখা যায় প্রাচীনকাল থেকে। শীতের তুষারাবৃত কাল শেষ হয়ে গেলে বসন্ত আসবে এই অপেক্ষায় মানুষ থাকতো। ভারতবর্ষে সেই জন্যই বসন্ত উৎসব মানুষের উৎসব ছিল। বসন্ত উৎসবের সঙ্গে বর্ষ গণনার একটা যোগ আছে। ভারতে বৈদিক কালের জ্যোতিষে সৌর মাস গণনার সঙ্গে চান্দ্র মাস গণনার একটা সামঞ্জস্য বিধান করা হতো। সেই হিসাবে ঐ বসন্তকালেই সায়ন মহাবিষুবের দিনটি আসে ( ২১শে মার্চ বর্তমানে ) যাকে Virtual Equinox Day বলা হয়। আজও আমাদের দেশের শকাব্দ গণনার সূত্রপাত ঐ দিন থেকে। মুখ্যত বর্তমান ভারত সরকারের সায়ন রাষ্ট্রীয় পঞ্চাঙ্গ পঞ্জিকার ১লা চৈত্র এর পরদিন থেকে শুরু হয়। প্রাথমিক কালে বর্ষায় বৎসরারম্ভ হতো। সেই থেকেই বর্ষাকাল কথাটি এসেছে, তার পরে, হেমন্তে বর্ষারম্ভের চিহ্নটি রয়ে গেছে মাসের নাম যেখানে অগ্রহায়ণ হয়েছে অগ্রহায়ণের পরে বর্ষারম্ভ বসন্তে। স্মৃতির কালে ঋতু কালের মধ্যে বসন্তকেই প্রধানতম ও প্রথমতম বলা হয়েছে। বসন্তকে শ্রেষ্ঠ ঋতু হিসাবে বর্ণনা করার চিহ্ন বহু স্মৃতি সম্মত শাস্ত্র এবং কাব্যের মধ্যে রয়েছে। বস্তুত Equinox Day এবং বসন্ত কালীন প্রথম পূর্ণিমাটির একটি সংযোগ একদা ছিল। এখন ক্রমশ সেই দিনগত ঐক্য আর নেই। চান্দ্র হিসাব অনুসারে দোলপূর্ণিমা একদিনে আর মহাবিষুব অন্যদিনে চলে গেছে। শুধু চান্দ্র মাসের ধারায় ঋতু চক্রের ধারণা অক্ষত রয়ে গেছে।

বসন্ত কাল জুড়ে সেময় বেশকিছু উৎসব চালু ছিল মাঘী শুক্লা পঞ্চমীকে বসন্ত পঞ্চমী বলার কারণও তাই। কোনো কালে সৌর মাঘেই Equinox দিবস ছিল। মাঘ ফাল্গুনে পার্থক্য কম। মলমাসের কার্যকারণে মাঘের তিথিগুলি তখন বসন্তকাল কথায় ও কাজে সমান হয়ে যায়। যদিও উত্তর ভারতে বসন্ত পঞ্চমী তিথিটি কোনো কোনো ক্ষেত্রে আলাদা। মাঘী শুক্লা পঞ্চমী নয়। ঐ তিথি মূলত দ্রীপঞ্চমী। ঐ দিন লক্ষ্মী দেবীর পুজার কথা থাকলেও সরস্বতীই বিশেষ ভাবে ঐ দিন পূজিতা হন। এর পরে অবশ্যই দোল পূর্ণিমার সঙ্গে স্মার্ত যোগাযোগ। কখনো কখনো সৌর ফাল্গুনে এসে পড়ে।

তখন বসন্ত কাল কথায় ও কাজে সমান হয়ে যায়। নদীরুপা সরস্বতী জ্ঞান ও বিদ্যার দেবী ঐ বসন্ত কালেই মাঘী পঞ্চমীতে পূজিতা হন। এর পরে অবশ্যই দোলপূর্ণিমার সঙ্গে সমার্ত যোগাযোগ খুজতে বলবো। সরস্বতী পূজার দিন উত্তর ভারতে কোথাও কোথাও হোলি গানের সূচনা হয়। কোথাও কোথাও এ-বাংলায় সরস্বতীকে আবীরও দেয়া হয়। কিন্তু বসন্তকালে আরও দুটি চান্দ্র তিথি দেখা যায় সেগুলি পরপর। মদন ত্রয়োদশী এবং মদন চতুর্দশী জুড়ে প্রাচীন কালের একটি বিশেষ প্রধান যোগ্য উৎসব চালু ছিল। এইটিই ছিল প্রাচীন মদন মহোৎসব। মদন মহোৎসবের কথা বিভিন্ন কাব্যে নাটকে রয়েছে। বসন্ত কালে মদনের এই পূজার সঙ্গে ফার্টিলিটি কাল্ট'এর সরাসরি সংযোগ ছিল। বলতে গেলে আসমুদ্র হিমাচল এবং উৎসবে মেতে উঠতো। কিন্ত এ উৎসব ক্রমশ কালগর্ভে হারিয়ে গেছে মদন ভষ্মের মতো। আজ কেবল স্মৃতি শাস্ত্রের পাতায় বসন্তের সেই মিলন মহোৎসবের শেষাংশ রচিত হতো দুই দিনে; এর সূত্রপাত দোলপূর্ণিমার আগের দিনে। যে দিন চাঁচর বা বহূৎসব হয়ে থাকে। তারপর এক চান্দ্র মাস জুড়ে চলতো এই প্রেমের মহোৎসব। প্রাচীন ভারতে যেখানে সমাজে ছিল চূড়ান্ত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি সেখানে গুপ্ত বা গুপ্ততর যুগে এই উৎসব অবাস্তব ছিল না। তাছাড়া মৌর্যপূর্ব ভারতের থেকে অষ্টম নবম শতাব্দী পর্যন্ত সমাজের একটা বিশেষ ভূমিকা পালন করতেন চৌষট্টি কলা পার দর্শিনী বারবণিতারা। তাদের ভূমিকা এই উৎসবে ছিল মুখ্য। কারণ তারাই ছিলেন মদনের পূজারিনী। যাক সেকথা । উৎসবের ক্রম ক্ষীয়মানতার অন্যতম কারণ অবশ্যই সামাজিক এবং অর্থনৈতিক পরিবর্তন। মুক্ত সমাজ ক্রমশ নানা নীতির পাশেও আবদ্ধ হল। ফলে উৎসবের মুখ্যাংশের অবলুপ্তির পর রয়ে গেল তার সূচনাপর্বটি যেটি আজকের দোলযাত্রা।

২
স্মার্ত রঘুনন্দন তার তিথি তত্ত্বে লিখেছেন
ফাল্গুন পৌর্ণমাসং দোলযাত্রামাহ কৃত্য চিন্তামণৌ ব্ৰহ্মপুরাণম্
নরো দোলাগতং দৃষ্টা গোবিন্দং পুরুষোত্তমম্।
ফাল্গুন্যাং সংযতো ভূত্বা গোবিন্দস্যং পুরং ব্রজেৎ।।
স্বন্দপুরাণীয় পুরুষোত্তম মাহত্ম্যোনত্রিংশাধ্যায়ে
ফাল্গুন্যাং কুৰ্য্যাদ্দোলায়াং মমভূমিপ।
এছাড়াও বিষ্ণুপুরাণে ঐ দিনগুলিতে সংযতাহার এবং কোনোরকম সম্ভোগ করায় নিষেধ জানানো হয়েছে। বলা বাহুল্য কৃষ্ণ ভাবনা প্রকাশ হওয়ার পরেরকার এই সব ধারণা । কিন্তু ফাগ বা আবীর নিয়ে দোলোৎসবের যে বিবরণ আমরা সর্বত দেখতে পাই তাতে কৃষ্ণ ভাবনার চাইতে পূর্ববর্তীকালীন প্রাচীনতর উৎসবের আভাসই পাওয়া যায়। এখনও হতে পারে প্রাগার্য সমাজে এই উৎসবের ধারা ছিল। যা কালান্তরে পরবর্তী বৈদিক যুগে সাংস্কৃতিক ভাবে বসন্তোৎসবের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

নন্দকিশোর কৃষ্ণের দোলযাত্রার ধারাতেই এখনকার দোল পূর্ণিমা বিষয়ক উৎসবের ধারা। তবে এই দোলযাত্রার সূচনা বেশ কিছু কাল পরেই। কারণ ক্লাসিকাল সংস্কৃত সাহিত্য বা শ্রীমদ্ভাগবতে এর উল্লেখ নেই। যদিও চাঁচরের সঙ্গে কেউ কেউ হোলিকা দহন, কেউ কেউ মেট্রাসুর বধের গোপ বালক কৃষ্ণের কাহিনিকে মিলিয়ে নেন। যাই হোক একটা উৎসতো আছেই। হোলিকা দহনের কাহিনিতে হিরণ্যকশিপুর পুত্র প্রহ্লাদকে কোলে নিয়ে তারই ভগ্নী হোলিকা প্রজ্জ্বলিত অগ্নিতে বসেন। সেই অসুর কন্যা হোলিকার ক্ষমতা ছিল অগ্নিতে দগ্ধ না হওয়ার। কিন্তু যাকে দগ্ধকরার জন্য অনল প্রজ্জ্বলিত হলো সেই প্রহ্লাদ অক্ষত থাকলেও হোলিকা নিজেই দগ্ধ হলো। সেই কাহিনিও যেমন আছে তেমনি মেট্রাসুর বধাভিনয় কৃষ্ণলীলায় আছে।
লতাপাতা পরিকীর্ণ একটি কুটিরে (বুড়ির ঘর পোড়া বা নেড়া পোড়া) জীবন্ত পিষ্টকময় বা ক্ষীরময় একটি মেষ – মেট্র – মেড়া – নেড়া কে রেখে
ওঁ বিষ্ণু রুদ্র সমুদ্ভুত মহাশন হুতাশন।
মেষমন্দির দাহেই’ত্র সমুদ্ভুত শিখো ভব।।
প্রদক্ষিণেন ধাবন্তং কৌতুকাৎ সহ বিষ্ণুনা।
প্রদক্ষিণং দক্ষিণাগ্নে কুরু কৃষ্ণ বিশেষতঃ।।
এইটিই সেই চাঁচর উৎসব।
পর দিন শুরু হয় দোলোৎসব। দোলমঞ্চ নির্মান পূর্বক তাতে আরোহন করিয়ে দেব বিগ্রহের পূজা হবে। এখানে গোবিন্দের পূজা করে দোলে বিগ্রহ স্থাপন করে তার পর ফল্গুৎসব বা আবীর দ্বারা গোবিন্দের অর্চনা করতে হয়।
নারয়ণং জগন্নাথং বৈকুষ্ঠণ্ঠং পুরুষোত্তমম্।
লীলয়া খেলয়া দেবং গোপীভিঃ পরিবরিতম্।।
জগন্নাথাচ্যুতানন্ত জগদানন্দ বর্ধক।
ফল্গুক্রীড়াভিরেতা ভিস্ত্রাহিমাং ভব-সাগরাৎ।।
জয় গোপীমুখাম্ভোজ মধুপান মধুব্রত।
ফল্গুক্রীড়াভিরেতাভি স্ত্রাহিমাং ভব-সাগরাৎ।
এই সমস্ত মন্ত্রে গোবিন্দকে ফল্গু বা আবীর নিবেদন করার কথা বা করতে হয়।

৩
বসন্তের রঙ লাল – কালিদাস বসন্ত বর্ণনা করেছেন অকাল বসন্ত বর্ণনায় কুমার সম্ভবে।
বালেন্দু বক্ৰান্যবিকাশভবাদ্বভূঃ পলাশানতি লোহিতানি।
সদ্যো বসন্তেন সমাগতানাং নখক্ষতানীব বনস্থলীনাম্।।
অর্থাৎ অল্প অল্প বিকশিত পলাশ ফুলের লাল কোরক গুলিতে (শুক্ল পক্ষের দ্বিতীয়া বা তৃতীয়ার) বাল চন্দ্রের মতো বোধ হচ্ছে। যেমন বনস্থলী নায়িকা বসন্তের সমাগমে সর্বাঙ্গে নখক্ষতচিহ্ন (উদ্দাম কামের চিহ্ন) নিয়ে প্রকাশ হয়েছে।
লগ্ন দ্বিরেকাঞ্জন ভক্তিচিত্রং মুখে মধুশ্রীস্তিলকং প্রকাশ্য।
রাগেন বালারুণ কোমলেন চূত প্রবালোষ্ঠ মলঞ্চকার।।
অর্থাৎ মধুশ্রী (বসন্তের সৌন্দর্য লক্ষ্মী)র নয়নে যেন ভ্রমরের কজ্জ্বল এবং পুষ্প তিলকের আলপনা (ভক্তি চিত্র) মুখ মণ্ডলে বিরাজমান। বালসূর্যের রক্তরাগে কোমল আম্রমুকুলগুলিরঞ্জিত হওয়ায় বোধহলো প্রবাল রাগে বসন্তলক্ষ্মী নিজ ওষ্ঠাধর রাঙিয়েছেন।

এরকম বেশ কয়েকটি শ্লোক উদ্ধার করা যায়। এই প্রকৃতির রক্তরাগ সদৃশ বর্ণ বসন্তের জ্ঞাপক। প্রাচীন সাহিত্যে হোলী খেলার নিদর্শন তেমন ভাবে না থাকলেও বসন্তের রঙ আসলে ফাল্গুনেরই উন্মাদনার প্রকাশ এবিষয়ে সন্দেহ নেই। গীত গোবিন্দে জয়দেবের রচনায় প্রথম সর্গের দুই গানে বসন্ত বর্ণনা আছে। ‘সামোদ দামোদোর’ পর্বের প্রথম গান। ললিত লবঙ্গ লতা পরিশীলন কোমল মলয় সমীরে। মধুকর নিকর করম্বিত কোকিল কুজিত কুঞ্জ কুটীরে। বিরতি হরিরিহ সরস বসন্তে। নৃত্যতি যুবতি জনেন সমং সখি বিরহি জনস্য দূরন্তে।। অর্থাৎ এই বসন্তে মলয় পবন ললিত লবঙ্গলতার আলিঙ্গনে কোমল হয়েছে এবং ভ্রমর গুঞ্জন মিশ্রিত কোকিল কুজনে কুঞ্জকুটির মুখরিত হয়েছে। হে সখী, বিরহী জনের পক্ষে অত্যন্ত পীড়া দায়ক এই সরস বসন্তে হরি বিহার করছেন এবং যুবতী জনের সঙ্গে নৃত্যরত হয়েছেন। জয়দেবের এই কাব্যে হরির দোলযাত্রার বিশদ বিবরণ কিছু নেই কিন্তু বসন্ত বর্ণনার প্রবল উচ্ছাস রয়েছে যথেষ্ট। মহাকবি কালিদাসের কাব্যের অতুল সৌন্দর্য না হলেও শৃঙ্গার রসান্বিত রাধাকৃষ্ণ লীলা বসন্তের মোড়কে এই ধরণের সাহিত্যের সৃষ্টি সম্ভারকে সমৃদ্ধ করেছে। তবে প্রকৃত অর্থে দোলে রঙের হোলিখেলা সাহিত্যে এসেছে মধ্যযুগে। হ্যাঁ ইতিমধ্যে অবশ্য তার সঙ্গে রাধাকৃষ্ণ লীলার বিরাট সংযোগ তৈরি হয়েছে। এরই ধারায় মৈথেলী কোকিল বিদ্যাপতি লিখেছেন – নব বৃন্দাবন নবীন তরুগণ। নব নব বিকশিত কুল।। নবীন বসন্ত নবীন মলয়ানিল মাতল নব অলিকুল ।। বিহবই নওল কিশোর কালিন্দী পুলিন কুঞ্জ নব শোভন নব নব প্রেম বিভোর।। নবীন রসাল মুকুল মধু মাতিয়া নব কোকিল কুল গায়। নব যুবতী গণ চিত উন মাতয়ে নব রসে কাননে ধায়।।। বসন্ত ঋতুর সঙ্গে হোলি খেলার এই মেল বন্ধন যে কয়েক শত বৎসরের তা নির্ণয় করে দেয় আদি মধ্য যুগে রচিত এই পদগুলি। নওলকিশোর কৃষ্ণের হোলি খেলার আরো বিবরণ পাওয়া যায়। জ্ঞানদাসের এই পদে — মধু বনে মাধব দোলত রঙ্গে। ব্রজ বণিতা ফাগু দেই শ্যাম অঙ্গে।। কানু ফাণ্ড দেয়ল সুন্দরী অঙ্গে। মুখ মোড়ল ধনি করি কত ভঙ্গে।। ফাগু রঙ্গে গোপী সব চৌদিগে বেড়িয়া। শ্যাম অঙ্গে ফাগু দেই অঞ্চলি ভরিয়া।। ফাগু খেলইতে ফাগু উঠিল গগনে। বৃন্দাবন তরুলতা রাতুল বরণে।। ষোড়শ শতকে উদ্ধব দাস নামক আর এক বৈষ্ণব কবির লেখায় হোলি খেলার চিত্র ধরা পড়েছে দারুণ সুন্দর ভাবে - ঋতুরাজ ব্রজ সমাজ হোরি রঙ্গে রঙ্গিয়া। নাগরিবর হোরিরঙ্গ উৰ্মত চিত শ্যামসঙ্গ নাচত কত ভঙ্গিয়া।। অন্য একটি পদে রঙ খেলার বিষদ বিবরণ রয়েছে – বৈঠল শ্যাম সঙ্গে মধুমঙ্গল সুবল সখাদিক সাথে। রাধা ললিতাবিশাখা আদি সহচরি পিচকারি করি নিল হাতে।। কানুক পিচকারী যবহি বরিখত একহি শত শত ধারে। সহচরি মেলিরাই যব ডারত কত কত শত একবারে।। বহুবিধ রঙ্গ অঙ্গ সব ভীগত আঁচরে মোছত মুখ। জিতলু জিতলু ভাষি হাসি দেই করতালি ক্ষণে ক্ষণে বাড়ত সুখ।। আরো বেশ কিছু পদে এই বাসন্তিক দোলোৎসবের বা রঙ খেলার বিবরণ পাওয়া যায়। কিন্তু এসবই যে মদনমহোৎসব বা সেই প্রাচীন ভারতের কামক্রীড়ান্বিত অসাধারণ মিলন মেলারই অঙ্গ সেকথা কবিরা বিস্মৃত হননি। জ্ঞান দাস লিখছেন – আওত রে ঋতুরাজ বসন্ত। খেলত রাই কানু গুণবন্ত।। তরুকূল মুকুলিত অলিকূলধাব। মদনমহোৎসব পিককুলরাজ। পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথও অসংখ্য বসন্তের গান লিখেছেন। অন্যান্য গীতিকারেরাও লিখেছেন। বসন্ত রাগে আগে প্রাচীন গান গুলি গাওয়ার রীতি ছিল। মুখ্যত জয়দেবের পদ বা বৈষ্ণব কীর্তন ও বসন্ত রাগে গীত হতো। উচ্চাঙ্গ সংগীত ও এই রাগকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। মিলনের ঋতুর জন্য এই রাগ চিহ্নিত । আর এই রঙ এসেছে মুখ্যত প্রকৃতি যেমন করে রঙ বাহারে নিজেকে সাজায়, পরাশে কিংশুকে অশোকে শিমূলে আম্রমুকুলে চারিদিক রক্তাভ হয়ে ওঠে সেই ধারায় মানুষও মিলনের এই ঋতুতে ফাগের রঙে রঞ্জিত করতে চেয়েছে নিজেকে। এখানেই রঙ, রাগ ও হোরিখেলার তাৎপর্য।
Make a Donation
A/C: 40910100004585
IFSC Code:BARB0BUDGEB
Bank Name: Bank Of Baroda
Name in Bank: BHAAN





Comments