//azoaltou.com/afu.php?zoneid=3651748 //azoaltou.com/afu.php?zoneid=3683887
top of page
Search

লোকসংস্কৃতি ঠিক কোন্ সংস্কৃতি তত্ত্বতালাশ করেছেন- সৌগত চট্টোপাধ্যায়

  • Feb 1, 2021
  • 5 min read

লোকসংস্কৃতি ঠিক কোন্‌ সংস্কৃতি



সৌগত চট্টোপাধ্যায়


অধ্যাপকঃ বাংলা বিভাগঃ রামসদয় কলেজ

অতিথি অধ্যাপকঃ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়


জাতীয়তাবোধ পৃথিবীর প্রায় সব দেশের লোকসংস্কৃতি চর্চার প্রথম পর্বে সক্রিয়

ছিল। এ কথা ঠিকই, কিন্তু নিছক স্বাজাত্যবোধের স্ফূরণই যে ‘লোকসংস্কৃতি চর্চা’

নয়, সে কথা বুঝতে আমাদের অনেকদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। ‘Folk’ বা ‘লোক’

বলতে গোটা আঠারো ও উনিশ শতকের বিশ্ব মূলত গ্রামীণ অশিক্ষিত বা কৃষিজীবী

মানুষকেই বুঝেছিলেন। ‘আদিবাসী সংস্কৃতি’ এবং ‘লোকসংস্কৃতি’ যে আলাদা, এমন

ধারণাও বিদ্যমান ছিল। ‘লোকসংস্কৃতি’ বলতে মূলত তারা বুঝতেন— শ্রেণি ভিত্তিক

গ্রামীণ অঞ্চলের সংহত সমাজে বসবাসকারী নিরক্ষর কৃষিজীবী সম্প্রদায়ের

নৈর্বক্তিক পরিশীলিত মৌখিক ঐতিহ্যকে।

কাকে বলে ‘সংহত সমাজ’

এর উত্তর ছিল এইরকমঃ নির্দিষ্ট ঐতিহ্য বা সংস্কৃতিকে আশ্রয় করে যে

সমাজ ‘গোষ্ঠীবদ্ধ’। গোষ্ঠীবদ্ধ মানুষ তিনিই, যার হয়েছে ‘গোষ্ঠীচেতনা’। এই

চেতনা প্রকাশ পায়, নির্দিষ্ট যে গোষ্ঠীতে তার বাস, সেই গোষ্ঠীর অন্তর্গত

মানুষের সঙ্গে তাঁর দৈনন্দিন যাপনের অভিন্নতায়।

ঠিক এমনই গোষ্ঠীবদ্ধ মানুষের দেখা নাকি কিছুটা মিলেছিল কিছুটা উন্নততর

সমাজে এসে। সমাজ তখনও পুরোপুরি কৃষিভিত্তিক হয়নি। কিছু মানুষ শিকার, সংগ্রহ

ইত্যাদির সঙ্গে সঙ্গে পশুপালনকেও তাদের জীবিকা করে নিয়েছিলেন। কেউ কেউ

কৃষিকে নির্ভর করেও নিজেদের জীবিকার সংস্থান করতে শুরু করেছিলেন। তুলনায়

অগ্রবর্তী এই স্তরের সংস্কৃতিই ‘আদিবাসী লোকসংস্কৃতি’ নামে পরিচিত।

আদিবাসীরা আদিম মানুষের উত্তরসূরী রূপে কথিত হয়। কিন্তু ডঃ মযহারুল ইসলাম

লিখেছেনঃ

দেশে দেশে বিভিন্ন সমাজ ও দল যখন একটি স্তর থেকে আরেকটি স্তরে উন্নীত

হয়েছে তখন উন্নয়নের পথে সে তার সঙ্গে এনেছে প্রত্যেক স্তরের সৃষ্টিকে। সেই

সৃষ্টি যেমন বস্তুগত তেমনই অ-বস্তুগত, যেমন সংস্কৃতিগত তেমনই সমাজগত। যুগ


ও সমাজস্তরের পরিবর্তনে তার সংস্কৃতিতে ফলত নেমে এসেছে রূপান্তর।

ফোকলোরের মধ্যে এ সৃষ্টিকর্ম বস্তুতে ও ভাবে, শিল্পে ও সাহিত্যে, আচারে ও

বিশ্বাসে, উৎসবে ও সংস্কারে নানাভাবে রূপায়িত। একদিক থেকে দেখতে গেলে তাই

ফোক তারাও যারা সুদূর আদিম কালে সংস্কৃতির বীজ বপন করেছিলেন ১ , যদিও

আদিম মানুষ ‘ফোক’ নন। কারণ আদিম কালে ‘গোষ্ঠী’ সেভাবে প্রকট হয়নি।

লোকসংস্কৃতি কিন্তু ‘গোষ্ঠীকেন্দ্রিক’ সংস্কৃতি।

Primitive Lore হয়, কিন্তু Primitive Folklore হয় না।

তাহলে ‘Folklore’ বলতে আমরা ঠিক কী বুঝবো?

উনিশ শতক পর্যন্ত লোকসংস্কৃতিবিদদের ধারণা ছিল নিম্নবিত্ত গ্রামীণ

পরিবেশের কৃষিজীবী মানুষরাই শুধু ‘লোক’, তাদের সংস্কৃতিই ‘লোকসংস্কৃতি’। এই

ধারণা বলবৎ ছিল , যখন ফোকলোর ‘Popular Antiquity’ এবং ‘Popular

Literature’ নামে পরিচিত ছিল তখন থেকেই। তারপর বিশ শতকের তিনের দশক

পর্যন্ত সেই ধারণা পুরোদস্তুর বিদ্যমানও ছিল। রাশিয়ার বস্তুবাদী তাত্ত্বিকদের

হস্তক্ষেপেই প্রথম শোনা গেল লোকসংস্কৃতি ‘শ্রমজীবী’ মানুষেরও সংস্কৃতি।

তারপর আমেরিকার প্রখ্যাত লোকসংস্কৃতিবিদ অ্যালান ডান্ডেস স্পষ্ট ঘোষণা

করলেন—

‘লোক’ হল একটি গোষ্ঠী বা বর্গের অন্তর্গত একজন সদস্য, যার থাকবে একটি

নির্দিষ্ট ঐতিহ্য বা সংস্কৃতি, যাকে তিনি একান্ত ‘নিজেদের’ বলে মানবেন। এই

ঐতিহ্য বা সংস্কৃতি যেমন পরম্পরা সূত্রে প্রাপ্ত হতে পারে, তেমনই হতে পারে

বড়ো আকারের একটি জাতিও। কিন্তু তারা নিশ্চয় জানবেন তাদের ঐতিহ্যের মূল

সূত্রগুলি। তাতেই তৈরি হবে তাদের গোষ্ঠীচেতনার ভিত্তি। ২

একটি বড়ো গোষ্ঠীতে আবার নানান উপবর্গও থাকতে পারে এবং থাকেও। যেমনঃ

বাঙালি জাতির ফোকলোরে কৃষক যেমন আছেন, তেমনই আছেন মজুর ও কারিগরেরা।

কিংবা আরো কেউ কেউ। এরা আবার হিন্দু-মুসলমান-খ্রিষ্টান ভেদে পৃথক। নিশ্চয়ই

সকলের ফোকলোর এক নয়। তবে তাদের সকলের মাতৃভাষা যে বাংলা তা বলাই

বাহুল্য। কিন্তু তা বলে কি সকলে একই রকম বাংলা ভাষায় কথা বলেন? নিশ্চয় তা

নয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার বাঙালি আর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তের

বাঙালির মাতৃভাষা নিশ্চয়ই একরকম নয়। তাই যখন বলা হয় লোকসংস্কৃতি সংহত

জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, তখন ‘সংহত’ শব্দটিতে আপত্তি ওঠে, উঠতে পারে। পারে

এইজন্য— একই গোষ্ঠীর অন্তর্গত হওয়া সত্ত্বেও ধর্ম-ভাষা-পেশা ইত্যাদির


নিরিখে তাদের মধ্যে বিভেদ যথেষ্ট। তবে প্রত্যেক স্বতন্ত্র গোষ্ঠীর মানুষই

স্বতন্ত্রভাবে ‘ফোক’ এবং এইরকম প্রত্যেক গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা বাঙালি

জাতির সংস্কৃতি ‘বাঙালি ফোকলোর’ -এর অন্তর্গত সন্দেহ নেই।

এখন কথা হল, ‘গোষ্ঠীভিত্তিক’ এই যে সংস্কৃতি তাতে কি ব্যক্তির কোনো স্থান

নেই? অবশ্যই আছে। ছড়া-প্রবাদের স্রষ্টা তো কোনো না কোনো একজন ‘ব্যক্তি’।

লোকশিল্পের কারিগর তো কোনো না কোনো একজন ‘মানুষ’। কিন্তু কথা হল,

‘ব্যক্তি’ থাকলেও তিনি ডুবে যান ‘দল’এ। সমষ্টির সৃষ্টি বলেই আসে

লোকসংস্কৃতির মান্যতা।

গোষ্ঠীবদ্ধতা লোকসংস্কৃতির সবচেয়ে বড়ো সূচক। তার সৃষ্টি গ্রামে না নগরে, তা

পরিশীলিত না অপরিশীলিত, লিখিত না মৌখিক, পরম্পরাবাহিত না একান্ত

সাম্প্রতিক, — এসব প্রশ্ন অবান্তর। ‘গ্রামীণ’ বা ‘নাগরিক’ যে কোনো লোকেই যে-

কোনো সময়ে ‘ফোক’। যেহেতু পেশা-ভাষা-ধর্ম ইত্যাদির ভিত্তিতে আমরা সবসময়ই

কোনো না কোনো গোষ্ঠীতে বিচরণ করি। তাই আজ আর স্বতন্ত্রভাবে কোনো

‘লোকসমাজ’ এর কল্পনা করা যায় না। ‘লোকসমাজ’ থাকলে একটি ‘অ-লোকসমাজ’ও

আছে ধরে নিতে হবে। দুটি সমাজের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব কি বাস্তবে দেখানো সম্ভব?

আবার একই ব্যক্তির একাধিক গোষ্ঠীতে বিচরণ করার ঘটনাও সমানভাবে সত্য।

যেমনঃ একজন ছৌ মুখোশ নির্মাতা একই সঙ্গে ‘সাঁওতাল’ এবং ‘কারিগর’ — দুটি

গোষ্ঠীর অন্তর্গত। ‘Non Folk’ বা অ-লোক বলে তাই কেউ নেই। তবে ‘Non

Folklore’ অবশ্যই আছে। কারণ আমরা সকলে কোনো না কোনো অর্থে ফোক বলে

গণ্য হলেও আমাদের অভিব্যক্তি (Expression) মাত্রেই ফোকলোর হয়ে যায় না।

অবশ্যই সেই অভিব্যক্তিতে আসতে হবে ‘যে গোষ্ঠীতে আমার বাস’ অথবা ‘যে

গোষ্ঠীর হয়ে তা রচিত’ তার স্বীকৃতি। Ben Amos বিশ শতকে ‘লোকসংস্কৃতির’ নতুন

সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বললেন, তা গোষ্ঠীর অন্তর্গত শিল্পিত সংযোগ অথবা

গোষ্ঠীকেন্দ্রিক সংযোগ প্রক্রিয়া। ৩

গোষ্ঠীকেন্দ্রিক এই সংস্কৃতিকে অবশ্যই বিচার করতে হবে গোষ্ঠী বিশেষের

সামাজিক অবস্থান ‘Context’ ভিত্তিতে। সেই ‘Texture’, বা যে শৈলীতে ওই

নির্দিষ্ট সংস্কৃতিটি গড়ে উঠেছে তার বৈশিষ্ট্য। কিন্তু ‘Context’ ছাড়া এইসব

বিচার করাই অর্থহীন। নির্দিষ্ট কোনো লোককথার তাৎপর্য ঠিকঠাক বোঝা যাবে

না, যে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীতে তার উদ্ভব, সেখানে উপস্থিত না হলে। ‘গম্ভীরা’

বোঝা যাবে না তার পরিবেশে গিয়ে উপনীত না হলে। ‘Context’ ছাড়া ‘Text’ এবং

‘Texture’- এর কোনো মূল্যই নেই। লোকসংস্কৃতি ও লোকসাহিত্যের বিচার-


বিশ্লেষণে তাই ‘Contextual Methodology’ বা ‘পরিবেশ প্রসঙ্গ বিচার পদ্ধতি’র

আজ এতো গুরুত্ব! পরবর্তীকালে অবশ্য এই পদ্ধতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরো

একটি ধারণা, যার নাম— ‘অভিকরণতত্ত্ব’। এতে বলা হচ্ছে,— যে ‘Context’-কে

আমরা এত গুরুত্ব দিচ্ছি, সেই ‘Context’ বা পরিস্থিতিও তো নিয়ত পরিবর্তনশীল।

ফলে বদলে যেতে পারে ‘Text’ এবং ‘Texture’ ও। বারংবার ‘পর্যবেক্ষণ’ তাই জরুরি।

লোকসংস্কৃতির আজ স্পষ্ট তিনটি পরিসর— ‘আদিবাসী লোকসংস্কৃতি’ (

Tribal Folklore ), ‘গ্রামীণ লোকসংস্কৃতি’ ( Rural Folklore ) এবং ‘নাগরিক

লোকসংস্কৃতি’ ( Urban Folklore )। দীর্ঘকাল অবধি আমরা ‘লোকসংস্কৃতি’ বলতে

‘আদিবাসী’ এবং ‘গ্রামীণ’ লোকসংস্কৃতিকেই বুঝে এসেছি, ‘নাগরিক লোকসংস্কৃতির’

চর্চা শুরু হল এবং ক্রমশ বাড়লো বিশ শতকের ছয়-সাত দশকে এসে। ডঃ সৌমেন সেন

লিখেছেনঃ

ওই সময় থেকে, বিশেষত পাশ্চাত্যে, শিল্পাঞ্চলে, আবাসন এলাকায়, হাটে-

বাজারে এমনকি শিল্প মহল, বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বর ইত্যাদি বলয়ে যে নতুন-নতুন

কিংবদন্তি, রঙ্গকথা, ছড়া-প্রবাদ, বাগধারা ইত্যাদি তৈরি হল এবং কীভাবে

গণমাধ্যম - পর্যটন শিল্প - বিজ্ঞাপন ইত্যাদিতে লোকসংস্কৃতির প্রয়োগ ঘটলো,

সে-সব বিষয়ে চর্চা ক্রমশ বিস্তৃত হল। যিনি এই বক্তব্যে সবচেয়ে এগিয়ে গেলেন

তিনি জার্মানের লোকসংস্কৃতিবিদ হার্মান বসিংগার। তিনি ঘোষণা করলেন,

প্রযুক্তির জগৎ এবং লোকসংস্কৃতির জগতের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। তিনি

হারিয়ে যাওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার তত্ত্ব বাতিল করে সম্প্রসারণের কথা বললেন।

আমেরিকায় উদ্ভূত হল ‘পাবলিক ফোকলোর’-এর ধারণাও। ৪

ইতিপূর্বে ১৯৬২ সালে জার্মান লোকসংস্কৃতিবিদ হ্যান্স মোজার প্রস্তাব

করেছিলেন ‘Folklorism’ তত্ত্বটি। তারও আগে রাশিয়ায় প্রস্তাবিত হয়েছিল

‘Folklorism’ -এর ধারণা। এসব ধারণা বা তত্ত্ব ঘোষণা করেছে লোকসংস্কৃতি

পাল্টাচ্ছে অহরহ। কোনটা আসল কোনটা নকল— এসব প্রশ্ন না তুলে বরং আজ

সেই পরিবর্তিত ঐতিহ্যকে বিচার করা জরুরি। ‘ফোকলরিজম’ -এর তত্ত্ব সেই

ধারণা বা উপলব্ধিরই লব্ধ ফল। কোনো সংস্কৃতিরই ঘাঁটি বা বিশুদ্ধ রূপ বলে কি

সত্যি কিছু হয়? রেজিনা বেনডিক্সের লেখা ‘In Search of Authenticity: The

Formation of Folklore Studies’ বইটি এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ

বলে আমি মনে করি।


লোকসংস্কৃতির ভবিষ্যৎ নিয়ে তাই আতঙ্কের কিছু নেই। যুগে যুগে তার স্বরূপ

বদলেছে, বদলেছে তার সংজ্ঞাও। ভবিষ্যতেও বদলাবে। কোনো সংস্কৃতিই স্থবির

নয়। ইতিহাস যেমন ‘অতীতের প্রবাহমাত্র নয়, ধারাবাহিকও নয়’, দেশকালের

সীমাহীনতায় তার নানা ছেদ, তেমনিই ‘সংস্কৃতিও’ সময়ের নির্মাণ। সময় বদলানোর

সঙ্গে সঙ্গে তার রূপান্তর স্বাভাবিক। তবু তারও মধ্যে কিছু থেকে যায় যা

সংস্কৃতির ‘মৌলিক’ চরিত্র। একটি লোককথা যতই না কেন পরিবর্তিত হোক, তার

মৌলিক চরিত্রের কিন্তু কোনোই পরিবর্তন হয় না। লোকসংস্কৃতির চর্চার

ক্ষেত্রে এই কথাটি মনে রাখতে হবে।

সূত্রপঞ্জিঃ

১। মযহারুল ইসলাম, ‘ফোকলোর পরিচিতি ও পঠন-পাঠন’, বাংলা একাডেমি, ঢাকা,

১৯৮৩, পৃঃ ৮৮।

২। Dundes, Alan, ‘Interpreting Folklore’, Bloomington: Indiana University

Press, 1980, P: 6-7.

৩। Ben-Amos, Dan, ‘Toward a Definition of Folklore in Context’, Journal

of American Folklore 84, 1971, P: 17.

৪। সৌমেন সেন, ‘লোকসংস্কৃতি তত্ত্ব-পদ্ধতি’, অঞ্জলি পাবলিশার্স, কলকাতা,

২০১২, পৃঃ ৮০ দ্রষ্টব্য।

 
 
 

Comments


Subscribe to Site

Thanks for submitting!

© 2020 Bhaan Theatre | Designed by Capturegraphics.in
bottom of page