সুরঞ্জনা দাশগুপ্ত
- Dec 30, 2020
- 2 min read

এই যে নব নব থিয়েটার তৈরি হওয়া এটা সবসময় ভালো দিক। এই যে ভয়ঙ্কর
প্যান্ডেমিকের মধ্যে আমরা পড়লাম সেখানে বিভিন্ন স্থানে থিয়েটারকে ছড়িয়ে দেওয়া –
কেউ বাড়ির ছাদে , কেউ বাড়ির উঠোনে, কেউ গ্যারেজে থিয়েটার করছে , এটা তো
থিয়েটারের একটা বাঁক বলতে পারি। বিভিন্ন সময়ে থিয়েটার নিজেকে সময় উপযোগী করে
নিয়েছে। আমার মনে হয় এটা থিয়েটারের অভিযোজনের মধ্যেই পড়ে। অভিযোজন দিয়েই
থিয়েটার টিকবে। এটা আমার প্রথম কথা। আর দ্বিতীয় কথা হচ্ছে বাদল সরকার যে
থিয়েটারের কথা ভেবেছিলেন , একটা ছোট জায়গায় এসে থিয়েটার করার কথা ভেবেছিলেন
, যেটা উনি কার্জন পার্কে নিয়মিত করতেন বা কফি হাউসে কলেজ স্ট্রীটে করতেন ,
সেটাতে উনি কিছু বডি ল্যাঙ্গুয়েজের ব্যবহার করতেন এবং একটা অন্যভাবে থিয়েটারটা
করার চেষ্টা করতেন। সেটা উনি একটা বিশ্বাস থেকে প্রোসেনিয়াম থেকে সরে এসে
স্পেসে থিয়েটার করেছেন। আর এখনও যারা থিয়েটার করছে এই যে প্রোসেনিয়ামে
থিয়েটার করা, আমরা তো বিলিতি থিয়েটার দেখে প্রোসেনিয়ামে থিয়েটার করি, আমাদের
নিজস্ব থিয়েটার এখনও জেনারেট করেনি। যেটা বাদলবাবু পরে বিভিন্নভাবে বলেছেন।
তার মধ্যেও ওনার বিদেশি শিক্ষা, ভাবনা চিন্তা সেগুলোর প্রভাব ছিল। কিন্তু দেওয়ালে
পিঠ ঠেকে গেলে তো বাঁচার উপায় ঠিক করে নিতে হবে। এটা আমার মনে হচ্ছে একজন
যে স্থানিক থিয়েটার বা স্পেস থিয়েটারের কথা বলা হচ্ছে সেটা থিয়েটারের জন্যে একটা
ব্যাপ্তি। আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ার একটা জায়গা। কিন্তু আবার যে থিয়েটার আমরা
এতদিন করে এসেছি সেটা থেকে এটা ভিন্নধর্মী। সেটার জন্যে এই থিয়েটারকে তো
আবার তৈরি হতে হবে। একটা ছোট শিশু যখন হাঁটতে শেখে তারপর কথা বলে- একটা
মানুষ হিসেবে তৈরি হওয়ার রাস্তাটা তৈরি করতে হবে। তেমনি থিয়েটার তো শুধু করে
ফেললেই হলো না, থিয়েটার একটা শিল্প। সেটা আমি গ্যারেজে করলে কেমন করে করব,
ছাদে করলে কেমন করে করব, প্ল্যাটফর্মে করলে কেমন করে করব, মাঠে করলে কেমন
করে করব সেগুলো আলাদা আলাদা হওয়া উচিৎ। সেটা অবশ্যই চিরকাল যতরকমের
পথনাটক হয়ছে, প্রচারমূলক রাজনৈতিক নাটক হয়েছে সেগুলো সব রাস্তাতেই হয়েছে
এবং এই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে। এখন প্রোসেনিয়ামটা বন্ধ রাখতে হয়েছে কারণ
আমরা জনসমাবেশ এড়াতে চাইছি। আবার এটার যেটা ঝুঁকি থিয়েটার আরও
মুষ্টিমেয়ের থিয়েটার হয়ে যায়। ওই চাকচিক্য, গ্র্যাঞ্জার, স্পটলাইট, প্রোসেনিয়ামের তিন
দিক ঘেরা মঞ্চ, তার বিভিন্ন সঙ্গীতের সাহায্য, বিভিন্ন টেকনোলজি সেগুলোর তো একটা
জায়গা আছে। এবার সেগুলোকে ছেড়ে যদি নতুন করে কিছু উদ্ভাস পাওয়া যায়, নতুন
করে কিছু হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায় সেটা আমার কাছে খুব ভালো। এর ফল কী
হবে সেটা ভবিষ্যত বলবে। সেটা আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়। আমি চল্লিশ বছর
থিয়েটার করেও এটা বুঝতে পারিনি যে এইরকম একটা বাঁক থিয়েটারে আসবে। আর
কিছু না হোক থিয়েটার বেঁচে থাকবে। মারা যাবে না। সময়ের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে
পারবে।




Comments