সুশান্ত সেন এর বই "পুতুল নাচ"এর ইতিকথা তুলে ধরলেন
- Mar 10, 2021
- 5 min read
Updated: Mar 11, 2021

পুতুল নাটক
--সুশান্ত সরকার

নাটকের উৎসার যেমন লোকজীবন ও সমাজ থেকে, এবংপর নাটক সমাজ পরিপোষনের বদান্যতায়
বিভিন্ন বিভায় ও মাত্রিকতায় বিভাসিত পরিতাপের হলেও সত্য, পুতুলনাচ তথা পুতুল নাটক একই
লোকজ উৎসভূমি থেকে উৎসারিত হয়েও, অপরাপর বহু আচরিত লোকজ ধারার মতো
পড়িপোষন, লালন ও ভোক্তাদের অবহেলায় অপসৃয়মান প্রায়। এমনকি বাস্তবে কিছু কিছু
বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাতি লোক সাহিত্য ও সংস্কৃতি স্পর্শিত মাত্র। সেরকম পুতুলনাচ একই ভাবে
অবহেলিত। আরো বিস্ময়ের দিক যে, পৃথিবীর সবথেকে প্রাচীন ঐতিহ্যগত লোকজ সংস্কৃতি
হিসেবে পুতুলনাচ বা নাটক এর মূল্যায়নে, সংজ্ঞায় বাঙালি নৃজতি গোষ্ঠী সেখানেও অনিহাগ্রস্ত।
আত্মসচেতন বাঙালি সেপথে এখনও অগ্রসর একেবারে হননি বলাটা ভুল হবে, তবে তা
প্রয়োজনের তুলনায় যৎসামান্য। তবে এই পথে আশার আলো আসবে একদা এই বলে আমি
আমার আলোচ্য শুরু করছি পুতুলনাচ বা পুতুলনাটক প্রসঙ্গে।
পৃথিবীর প্রায় সমস্ত সভ্য দেশেই এক সুপ্রাচীনকাল থেকে বিচিত্রভাবে পুতুলনাচ প্রচলিত।
ইউরোপের লিখিত ইতিহাসের বিবরণে পাওয়া যায় -- খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে ইউরোপে পুতুলনাচ
বা পাপেট্রি প্রচলিত ছিল। ভারতীয় উপমহাদেশেও পুতুলনাচের ইতিহাস আরো প্রাচীন।
খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকে রচিত কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে পুতুলনাচ বৃত্তির পরিচয় লক্ষ্যনীয়।
এছাড়াও গ্রিস, চেকোশ্লোভাকিয়া, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশে কখনও শিক্ষা কখনও রামায়ণের
ছায়াতে পুতুলনাচ হয়েছে। আমরা সবাই জানি পুতুলনাচের সংজ্ঞায় - পুতুল নামক অচেতন জড়
পদার্থটিকে যখন কোনো মানুষ অভিনয়ের মাধ্যমে কিছু দর্শকের সামনে উপস্থিত করে, তখন তাকে
' পুতুলনাচ' বলে। এবং তার সাথে যে মানুষ পুতুলকে যখন তুলে ধরেন এবং মানুষের মতোই পুতুলগুলোর
হাসি কান্না, আনন্দ- বেদনা, রাগ - অভিমান চরিত্র অনুযায়ী পোশাক পরিচ্ছেদ, এবং বিচিত্র
উপকরণের সাথে উঠে আসে সেই বিষয়কে পুতুলনাচ বলে।
এর উদ্ভব খানিক মতান্তর রয়েছে। পুতুলনাচের সাথে ' নৃত্য' শব্দটি সংযুক্ত এবং বৈশিষ্ট্যগত
দিক থেকেও অভিনয় সমৃদ্ধ নাট্য ধারার বাহক। অনুমান করলে অসঙ্গত হবে না, নাটকের
উদ্ভবের আগেই পুতুলনাচের উদ্ভূত হয়ে পরস্পরকে প্রভাবিত করে থাকবে। অতঃপর দুটি
সাংস্কৃতিক মাধ্যমের মধ্যে সাদৃশ্য বা সমধর্মিতা সক্রিয় ভাবে বিদ্যমান। প্রাচীন নাট্য
ধারার মূল উৎস কৃষিভিত্তিক সমাজের উর্বরা শক্তির দেবোৎসবকে ঘিরে। এই উৎসবকে
কেন্দ্র করে যেসব নৃত্য - গীত- অভিনয় তাকে দুটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। প্রথমত -- স্থাবর,
দ্বিতীয়ত -- জঙ্ঘম। প্রথমটি কোনো স্থবির দেববিগ্রহে সামনে সংগঠিত হতো। যখন
দেবমাহাত্ম্যগীতি দীর্ঘ হয় তখন দ্বিতীয় অর্থাৎ পাঞ্চালিকা ( Puppet) বলা হয়। পাঞ্চালি
কথার অর্থ - কাঠ, কাপড়, হাতির দাঁত, চামড়া ইত্যাদি নির্মিত পূত্তলিকা বা পুতুল। সুতরাং
নাটকের সাথে পুতুলনাচের সম্পর্ক অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। সংস্কৃত সাহিত্যে
✓নৃত ধাতুজাত নাটক শব্দটি তৎসমরূপে আজো গ্রাহ্য এবং অর্থ বিশ্লেষণ করলে দাঁড়ায় --
যাবতীয় নাট্যকার্য অর্থাৎ অভিনয়। এ অর্থে নৃত্যগীত ও অভিনয় কার্যকে পুতুল দিয়ে
সম্পন্ন করলে তাকে পুতুলনাচ বলা অহেতুক নয়। সুতরাং পুতুলনাচ লোকজ সংস্কৃতির ঐতিহ্য
এবং প্রকান্তরে নাট্যকর্মও (Puppet theatre) বটে।
পুতুলনাচ প্রসঙ্গে প্রাচীনত্বের কিছু কিছু উল্লেখ এসে পড়েছে। আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ
শতকে কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে কুহক, প্লাবক প্রভৃতি সম্প্রদায় ছিল যাদের বৃত্তি ছিল
পুতুলনাচিয়ের। প্রাচীন অলংকারশাস্ত্র কাব্যদর্পণে নাটকের যে চতুঃষষ্টি কলা উল্লিখিত হয়েছে,
তার মধ্যে সাতাশতম কলা -- সূত্র ক্রীড়া, অর্থাৎ 'সূত্র সঞ্চালন দ্বারা পূত্তলিকাদি চালন',
সহজ কথায় পুতুলনাচ। অন্যদিকে মহাভারত, মহামতি পতঞ্জলির উল্লেখযোগ্যভাবে লক্ষ্যনীয়।
বাংলাদেশের পুতুলনাচের ঐতিহ্য তাই সুদীর্ঘকাল জুড়ে। সুতরাং প্রভাব বিস্তার করেছে অনেকাংশ। '
শ্রীশ্রীচৈতন্যভাগবত' গ্রন্থে ১৫৪৮ খ্রিস্টাব্দে শ্রীবৃন্দাবন দাস ঠাকুর পুতুলনাচের
জনপ্রিয়তার পরিপ্রেক্ষিতে উল্লেখ করেছেন -- ' কাষ্ঠের পুতলি যেন, কুহকে
নাচায়।' ১৬১৫ খ্রিস্টাব্দে কৃষ্ণদাস কবিরাজ ' চৈতন্য চরিতামৃত' গ্রন্থে আদিলীলায় ৯ম
পরিচ্ছেদে উল্লেখ করেছেন -- ' কাষ্ঠের পুতলি যেন, কুহকে নাচায়।' অর্থাৎ, বিশ শতকের
আধুনিক শিল্পকলা হিসেবে এবং একবিংশ শতকে পুতুলনাচ বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় লোকজ সংস্কৃতি
রূপে সমাদৃত ও স্বীকৃত হয়ে চলেছে।
এখন প্রশ্ন পুতুলনাচকে পুতুলনাটক না বলে পুতুলনাচ বলা হবে কেন? এই প্রশ্নের মীমাংসা
করতে গেলে অবশ্যই স্বীকার করে নিতে হবে যে বৈদিক ও সংস্কৃতে ✓নৃৎ ধাতুটি থেকে নৃত্য বা
নাচ শব্দটির উদ্ভব। ঋকবেদে নৃত্য শব্দটি পঞ্চমবেদ বা নাট্যবেদ হিসেবে পাওয়া গেলেও ভরত
মুনির নাট্যশাস্ত্রে ✓নৃৎ ধাতুজাত নাচ শব্দটি অভিনয় অর্থেই ব্যবহার হয়। বস্তুত ✓নৃৎ ধাতুটি
মৌলিক ধাতু নয়। নৃ শব্দ থেকে উৎপন্ন এবং প্রত্ননাম ধাতু। নাচের প্রধান তিনটি অঙ্গ হল --
অঙ্গহার, করেন ও নাট্য। ললিত অঙ্গভঙ্গির নাম অঙ্গহার, দুই বা তিনটি অঙ্গভঙ্গি একসাথে
করলে করন এবং আরো অনেকগুলো একসাথে করলে নাট্য। সুতরাং পুতুল নাটকের অভিনয়
প্রক্রিয়াটির সাথে অভিন্ন অর্থে নাচ শব্দটি সমন্বিত হয়ে পুতুলের নাট্য ক্রিয়ার সাথে অভিনয়
কলা হিসেবে প্রচলিত হয়েছে -- এমন কথা বলা যেতে পারে।
পুতুলনাচের পুতুলগুলো নিশ্চল -- অভিনয় করে না। তাদের অভিনয় -- ক্রিয়ার সাথে নৃত্যের
সম্পর্ক আছে। অর্থাৎ নেচে নেচে অভিনয় করে। পুতুলকে যে ব্যক্তি অভিনয় করান, তিনি
সংলাপ অনুসারে অঙ্গভঙ্গির সাথে সাথে পুতুলগুলো চলাফেরা যন্ত্রের তালের সাথে ও নৃত্যের
ছন্দময়তায় অভিনয় সম্পন্ন করেন। আর যেহেতু পুতুল অভিনয় করে নাচিয়ের নাচের তালের সাথে
নেচে নেচে তাই একে পুতুলনাচ বলা অযৌক্তিক নয়। অন্যদিকে ছন্দায়িত দেহভঙ্গিমা
অভিব্যাক্তিকে দৃশ্য করে, আর পুতুলের ক্ষেত্রে দেহভঙ্গিমার সাথে সংলাপ সেই অভিব্যক্তিকে
দৃশ্য ও শ্রাব্য উভয়ই করে তোলে। তাই পুতুলনাচ নাম হলেও প্রকারান্তরে পুতুলনাচ অভিনয় শিল্প।
সঙ্গে মঞ্চ, পুতুলগুলির অভিনয় ক্রিয়া, চরিত্র অনুযায়ী পোশাক পরিচ্ছেদ, সাজ সজ্জা পুতুলনাচে
অভিনয় শৈলী স্থাপন করে যা মানুষের মতোই হাসি কান্না আনন্দ বেদনা ইত্যাদি অভিব্যক্তির
অভিনয় করে।
কোনো কোনো সমালোচক পুতুলনাচকে লোকসংস্কৃতির সাথে বিশেষ সম্পর্কযুক্ত মনে করেন না।
কিন্তু, লোকজীবন আচরিত এবং লোকপরম্পরা প্রচলিত এই সংস্কৃতিকে যদি লোকসংস্কৃতি বলে
বিবেচনায় আনা যায়, তাহলে পুতুলনাচ অবশ্যই লোকসংস্কৃতির অঙ্গীভূত। পুতুলনাচে আখ্যানসমূহ
নানান সামাজিক, ঐতিহাসিক এবং পৌরাণিক জীবনবোধ নিয়ে। বিশেষ করে ' রামায়ণ',' মহাভারত',
কৃষ্ণলীলা এছাড়া মঙ্গলকাব্য,লৌকিক, প্রেম কাহিনী রয়েছে। এর মধ্যে অনেক কাহিনী পৃথক
ভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ঐতিহাসিক কাহিনীকে ভিত্তি করে নেতাজি সুভাষ, তিতুমীরের বাঁশের
কেল্লা পুতুলনাচ গ্রাহ্য করেছে। বর্তমানে সময়ের দাবিকে মাথায় রেখে বাদ্যযন্ত্রের বিপুল
পরিবর্তন এসেছে পুতুলনাচে। দর্শক মহলকে টানার জন্য ঢোল, খোল, কাঁসি, সানাই দোতারা কে
সরিয়ে রেখে তবলা, হারমোনিয়াম, বেহালা কর্নেটের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। প্রতিনিয়ত
প্রতিযোগিতায় নামতে হচ্ছে অন্যান্য সাংস্কৃতিক অঙ্গিকসমুহের সাথে। বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বিপুল
প্রয়োগ এই রেষারেষি থেকে থিয়েট্রিক্যাল আঙ্গিক গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে। বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে
সবথেকে প্রাচীনতম ঐতিহ্যের শিল্প।
পুতুলনাচ পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া অনুসারে চার ভাগে বিভক্ত করা যায়। লাঠিরপুতুল,তারের পুতুল,
বেনীপুতুল ও ছায়াপুতুল। কিন্তু চরিত্র এবং বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে ছায়া পুতুলের নাম উল্লেখ হলেও
বিশ্লেষিত হয়নি। অর্থাৎ প্রচলিত দিক থেকেও পুতুল নাচ তিনটি প্রকারেরই হয়।
তারের পুতুলনাচ বলতে সুতোয় টানা পুতুলনাচের কথাই বলা হয়েছে। জীবিকা নির্বাহের জন্য
অনেকাংশে পেশা হিসেবে বেছে নেন অনেকেই। পুতুল গুলো মাথা থেকে কোমর বা তার সামান্য নিচু
অংশ পর্যন্ত শোলা জমিয়ে পুতুলের অবয়ব তৈরি করে। উচ্চতায় দুই আড়াই ফুট হয়ে থাকে। নাচিয়ের
হাতে যোগ চিহ্ন আকারের একটা চারমুখো লাঠির সঙ্গে বেঁধে গানের সুরে, তালে পুতুলগুলো নাচিয়ে
থাকেন। বিশেষত যাত্রাপালাকে অবলম্বন করে গড়ে তোলা হয়। ও লোকজ যাত্রা পৌরাণিক,
সামাজিক এবং ঐতিহাসিক কাহিনী ব্যক্ত হয়ে থাকে তারের পুতুলনাচে।
লাঠি পুতুলনাচ হল লাঠিপুতুলকেই ডাঙের পুতুল বা দণ্ড পুতুল। ডাঙ শব্দের অর্থ দণ্ড।অর্থাৎ
লাঠি। যে পুতুলকে লাঠি বা দণ্ডের সাথে নাচানো হয় মঞ্চে সেই শ্রেণীকে লাঠি পুতুলনাচ বলে। লাঠি
পুতুল যারা নাচান তাদের বলে প্লেয়ার। বিশেষত যে সমস্ত মঙ্গলকাব্য সেগুলো লাঠি পুতুলনাচের
বিষয়। মূলত দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা অঞ্চলে বিশেষ ভাবে লক্ষ্যনীয়। কিছু কিছু দল যাদের নাম
পশ্চিম বাংলায় জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে সরস্বতী পুতুলনাট্য সমাজ, স্বপনপুরী পুতুলনাট্য
সমাজ ইত্যাদি। বাংলাদেশেও এরকম অনেক নাম এই ঐতিহ্য কে টিকিয়ে রেখেছে অক্লান্ত
পরিশ্রমে।
বেনীপুতুলনাচ বা দস্তানা পুতুলনাচ হল দুই বা তার বেশি ছোট ছোট পুতুলকে যখন জনসমক্ষে দুই হাতের
আঙ্গুলের সাহায্যে নাচানো হয়। সেগুলোই বেনীপুতুলনাচ। হাতের পাঁচটি আঙ্গুলের মধ্যে ঢুকিয়ে
নাচানো হয় তাই এর নাম ইংরেজিতে Glove বাংলা পরিভাষায় দস্তানা। তারাপদ সাঁতরা এই শ্রেণীকে
হাতনাচনা পুতুলনাচ বলে উল্লেখ করেছেন। বিশ্বের বিশেষ করে জার্মানি, জাপান,রাশিয়া,
ব্রাজিল, সুইডেন, হাঙ্গেরি এই পুতুলনাচের প্রচলন রয়েছে। কোনো সমালোচক বলেছেন যে এটি
পুতুলনাচের মধ্যে সবথেকে প্রাচীনতম পুতুলনাচ।
ছায়াপুতুলনাচের প্রচলন বাংলাদেশ পশ্চিম বঙ্গের কোথাও নয়। বর্তমান ভারতবর্ষের কেরালা
রাজ্যে ছায়াপুতুলনাচের সংখ্যাই বেশি। পাশ্চাত্যে যে পুতুলনাচ নাটক হিসেবে প্রচলিত এই নাট্য
আঙ্গিকে মানুষ যখন পুতুলের মতো সেজে মঞ্চে অবতীর্ণ হয় অথবা সেই পুতুলরূপ মানুষের
ছায়াকে আলোয় প্রতিফলন পর্দায় প্রতিবিম্বিত করে পুতুলনাচের ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ১৯৬১
খ্রিষ্টাব্দে আমেরিকায় peter schumann ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরুদ্ধে জাতীয় আন্দোলন সৃষ্টি করার
জন্যে প্রতিষ্ঠা করেন The Bread and Puppet Theatre। এই নাট্য প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি মানুষের
কাছে ভিয়েতনাম যুদ্ধের দৃশ্যগুত ভাবে ছায়াপুতুলের মাধ্যমে তুলে ধরার প্রয়াস করতো। সুতরাং
সমাজ সংস্কারক, রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে এই চায়াপুতুল নাচ ব্যবহার হতো।
পুতুলনাচের প্রত্যেকটি ধারা বাকি অন্যান্য শিল্পের সাথে সার্থক মিলন ঘটেছে সে বিষয়ে সন্দেহ
নেই। এবং প্রত্যেকটি শিল্প মাধ্যমের একত্র ব্যাখ্যা পরিপূর্ণ করে গড়ে উঠেছে পুতুলনাচ। তবে
আধুনিক সময়ে এই মাধ্যম কোথাও গিয়ে রেষারেষির কবলে পরেছে। লোকজ সংস্কৃতির যে অন্যতম
উদাহরণ আজ মানুষের আড়ালে চলে যাচ্ছে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে বিভিন্ন বিষয়কে
পুতুলনাচের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হচ্ছে, যায় ফলে লোকজ সংস্কৃতির ধারাটি একটা সময়ে
গিয়ে আগের মতো স্থানে থাকছে না খর্ব হচ্ছে। নানান দল বন্ধ হচ্ছে, টিকিটের যথাযথ
মূল্য উঠছে না। নাচিয়েরা অন্য কাজে ব্রত হচ্ছেন। তবে আশার কথা থেকেই যায় বাংলাদেশ
পুতুলনাচ বেশ খানিকটা দূরে এগিয়েছে। ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বরে পাপেট বা ফিগার ফেস্টিভ্যাল
১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে ডিসেম্বরে কোলকাতায় আন্তর্জাতিক পুতুলনাচ প্রদর্শনী টিকিয়ে রেখেছে
আমাদের সবচেয়ে প্রাচীন এই ঐতিহ্য কে সবার মধ্যে। সবের মধ্যে টিকে থাকার এই লড়াইয়ে
আমরা যাতে এই বিষয়কে শিল্পশ্রেনীর ভাগ থেকে আলাদা না করে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা
করি তাহলে আমাদের অধ্যায়টি বিচ্যুতি হবে না।
উল্লেখযোগ্য ভাবে রাজা হরিশ্চন্দ্র, নিমাই সন্ন্যাস, প্রভৃতি নতুন পুতুলনাচের পালা দক্ষিণ
বাংলা বিশেষ করে বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলে সুতোয় টানা পুতুলনাচের দল গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন
করেছে। দুঃখের কথা রচয়িতার নাম জানা যায়নি।
Make a Donation
A/C: 40910100004585
IFSC Code:BARB0BUDGEB
Bank Name: Bank Of Baroda
Name in Bank: BHAAN





Comments