২৬ তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব নিয়ে - সিদ্ধার্থ মাইতি
- Feb 1, 2021
- 3 min read

সিদ্ধার্থ মাইতি
ন তারিখ সকাল না বেলা এগারোটা শিশির মঞ্চ,অতিমারি সতর্কতায় বিলম্বিত কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আসল ছবি দেখা শুরু! দু ঘন্টা আগে নন্দন এক এ ফেলিনি শতবার্ষিকী শ্রদ্ধাঞ্জলির সূত্রপাত হয়েছে।
Highways of Life নিয়ে আগাম খবর ছিলো ভালো ছবি,অমর মাইবামের ব্যক্তি জীবনের পিতৃভূমি মণিপুর ইম্ফল নিজের জীবন! তায় সহ চিত্রগ্রাহক বিবেক পাল আমার অন্তরঙ্গ সহযাত্রী.. সাকুল্যে কুড়ি জন দর্শক! হ্যাঁ Highways of Life একটি অবিশ্বাস্য জীবন গাথা। আহা এমন ছবি করে কেউ জীবনের যাবতীয় বর্ণ ভঙ্গী উথাল চড়াই এবং তারপরও জীবন। ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য হাই ওয়ে মণিপুরের রক্ত সংবহন তন্ত্রের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। যাবতীয় আন্দোলন সেই হাইরোড বারংবার দীর্ঘ অবরোধে। হাইওয়ে ট্রাক ড্রাইভারদের ছারখার জীবনগাথা মণিপুরএর এক ভিন্ন ধারাবিবরণী! ভালো ছবি দেখে ফুরফুরে।
Highways of Life ২৬ তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ ভারতীয় প্রামাণ্য চিত্র পুরস্কার পেলো। ১৫ ই জানুয়ারি সন্ধে ছ'টায়!
কবি অধ্যাপক কিরগিজস্তানের ছবিটি দেখবেন, ডেলিগেট কার্ড হাতে আসতে আসতে কিরগিজস্তান হারাতে হবে। শাম্বালা! শিশু দাদু অগাধ প্রকৃতি ও তার পবিত্র মাতা আলোকিত বাইসন... এবং পিতার দূরত্ব.. পিতা কে!! এই বিপুল অপার বৈভবময় প্রকৃতির রক্ষাকর্তা!! লোভী অরণ্যখেকো স্বাভাবিক আচরণের বাবুদের ক্রমাগত বিপণন পণ্য, টিভি যেমন, পৌঁছে দেওয়া ও সেবক নিয়োগ! জনজাতি পারম্পরিক লোকগাথা সংস্কার ও বিশ্বাস বা উলটো বিশ্বাস এবং সংস্কার নির্মাণ প্রতিনির্মাণে ফেরে।
চনমনে দুরন্ত শিশু শাম্বালা আমাদের মোহিত করে রাখে! শাম্বালা কিরগিজ ভাষায় a glow emitting baby)! কি বাংলা করি! দ্যুতি বিচ্ছুরক শিশু। নাহ জুৎসই লাগছে না। কিন্তু যে শিশুর অবয়ব দেখি তার অস্তিত্বের গভীরে বিশ্বাস --- সেই আলোকিত নীল গাই তাদের গোষ্ঠীর শেষ শিশুটিকে বাঁচিয়ে রেখেছে সে আসবেই। সেই স্বর্গীয় নীল গাই লোভী হিংস্র জঙ্গল বিনাশী মানুষের আয়োজনে শিকার হয়ে যায়! সাম্বালার বিশ্বাস তার অঞ্চলের উচ্চতম চূড়ায় উঠে প্রার্থনা করলে সব সংকট ঘুঁচে যাবে।।ছবি জুড়ে ক্ষয়িষ্ণু গোষ্ঠীর বেদনা যন্ত্রণা লোভ আর তার সমান্তরালে শাম্বালার হারিয়ে যাওয়ার ঝর্ণা নদী নদীর পাড়ের নুড়ি পাথর আর উত্তুঙ্গ পাহাড়ের বুক পিঠ জুড়ে অরণ্য! আরটিকপাই সুইনদুকভের প্রথম পূর্ণ দৈর্ঘ্য ছবি( ২০২০)আমাদের স্তব্ধ করে বিদীর্ণ করে এবং শাম্বালার স্বপ্নের সহযাত্রী করে তোলে। শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কার নিয়ে গেলেন সুইন্দুকভ তাঁর প্রথম ছবিতে!
বান্দার ব্যান্ড ইরানের ছবি। আমরা যে ইরানি ছবি জেনে এসেছি কিরিওস্তামি, মাখমলবাফ ( পিতা কণ্যা দুজনেই) জাফর পানাহি, মাজিদ মাজিদি এবং আরও নাম আসে তার চলন উপাখ্যান নির্মাণ শৈলীর থেকে বেরিয়ে এক অন্যতর ভাষার আমাদের দেখালেন মানিজে হেকমত! তাঁর তৃতীয় ছবি। ছবির নামেই ব্যান্ডের উল্লেখ মানে গান এবং গান। কিন্তু এই বান্দার ব্যান্ড তেহরানের উদ্দেশে রওয়ানা হয় গর্ভবতী মাহলা, তাঁর স্বামী এবং অন্তরঙ্গ বন্ধু কে নিয়ে। পথে তুলে নেবেন বাকি সদস্যদের। প্রবল বর্ষণে বিধ্বংসী বন্যা। পথ হারিয়ে যাচ্ছে ক্রমাগত। বন্যাত্রাণের শিশুখাদ্য থেকে স্যানিটারি ন্যাপকিন পৌঁছে দেওয়ার শর্তে পথ ছাড়ে অবরোধের জনতা। এক নারী সদস্যের খোঁজে যেতে যেতে সব হারানো আর্তনাদ দীর্ণ বস্তিতে এসে হাজির হয় তারা। মাহলা নিজের আকুলতায় তার সঙ্গীত সঙ্গীকে খুঁজে পায় এক সর্বস্ব খোয়ানো নারীর চেহারায়। ধ্বসে যাওয়া রাস্তার অকল্পনীয় বাধা পেরোতে পেরোতে আমরা দেখি প্রাচীন অট্টালিকার বিধ্বস্ত অবশেষ। দলের গিটার শিল্পীর সন্ধানে এগিয়ে তারা অকূল সমুদ্রের মতো জল দেখে! ভেসে যাচ্ছে গিটার তিরতিরে জলস্রোতে। প্রগাঢ় এক শূন্যতায় বিলাপে হারিয়ে যায় মাহলা ও তার স্বামীর একমাত্র পুরুষ সঙ্গী।
তার গানে rain coming down as sowrds.. চমক লাগে। সব পথ হারিয়ে যায় সঙ্গীত সমারোহে পৌঁছনোর তবু আশা জাগে। তবে এ বন্যা কি শুধুই বন্যা নাকি ইরানের আজকের অবস্থা!!! এতো নিপুণ নির্মাণে মানুষের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের উপাখ্যান মানিজে হেকমত দেখালেন! এবারের উৎসবের শ্রেষ্ঠ ছবির শিরোপা পেয়েছে বান্দর ব্যান্ড। সালাম মানিজে! সামিরা মখমল বাফের পর ইরানি সিনেমার মহিলা পরিচালক আপনার কাজে আমাদের প্রত্যাশা বাড়ে।
ভারতীয় শ্রেষ্ঠ স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবির পুরস্কার পেয়েছেন উজ্জ্বল পাল।তাঁর Dusk ছবির জন্য।। ২৩ মিনিটের ছবি যে কতোটা সংলাপ হীন বাঙ্ময় হয়ে উঠতে পারে না দেখলে জানা যেতো না। দেহবৃত্তির নারীদের নিয়ে ছবি অপ্রতুল নয়। তবে Dusk এক অনবদ্য ন্যারেটিভ। উজ্জ্বল সাবাশ।
এখানেই থামি।
বহু ছবি নিয়ে কথা বাকি রইলো




Comments